১৫. ঈসা মশীহ এবং ছেলেমেয়েরা (১০ঃ১৩-১৬)
পটভূমি ঃ ঈসা মশীহের সময়ে, যখন কোন ছেলে সন্তানের বয়স মাত্র ৮ দিন হতো, সে তখন আল্লাহর রাজ্যের সদস্য বলে বিবেচিত হতো। যদিও সমাজে শিশুদের সাধারণ অবস্থা নীচুতে ছিল। গ্রীক শব্দ 'পাইস' যা এই পাঠ্যাংশে 'ছেলেমেয়ে' হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তার অর্থ যে কোন বয়সের ছেলেমেয়ে, এমনকি নবজাতকও।
১. যখন আপনি আপনার কিম্বা অন্যের সন্তানের দিকে তাকান যাদেরকে আপনি চেনেন, এটি কি বিশ্বাস করতে কঠিন হয় যে আল্লাহর রাজ্য এদের মত লোকদেরই ? কেন অথবা কেন নয়- আপনার কারণগুলো ব্যাখ্যা করুন।
২. চিন্তা করুনতো যে কেন এই মায়েরা তাদের ছেলেমেয়েদের এমনকি নবজাতকদেরকেও ঈসা মশীহের কাছে আনতে চেয়েছিল - যারা ঈসা মশীহ কি বলছেন তা বুঝতে সক্ষম ছিল না ?
আপনি আপনার সন্তানকে ঈসা মশীহের কাছে নিয়েছিলেন, কেন নিয়েছিলেন ?
কেন সেই সময়ে, এমনকি এখনও বেশীরভাগ মায়েরা তাদের সন্তানকে ঈসা মশীহের কাছে আনেন না ?
৩. যখন ছেলেমেয়েদেরকে ঈসা মশীহের কাছে আনা হয়েছিল তখন কেন সাহাবীরা অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন ?
এই একটি মাত্র সময়ের কথা সুখবরে বলা আছে যেসময়ে ঈসা মশীহ 'অসন্তুষ্ট' হয়েছিলেন। কি ধরণের পরিস্থিতি তার এই অনুভূতি তৈরী করেছিল ?
৪. বর্তমান সময়ে, ছেলেমেয়েদেরকে ঈসা মশীহের কাছে আনার অর্থ হল তাদেরকে পাক কিতাবের কাছে আনা। ছেলেমেয়েরা তাদের বাড়ী এবং সান্ডেস্কুল, এবং জামাতের আয়োজনে কোন অনুষ্ঠান, ইত্যাদি থেকে পাক কিতাবের কথা শুনছে কিনা সে সম্বন্ধে ঈসায়ী অভিভাবকেরা মাঝে মধ্যে নিশ্চিত নন কেন ?
কিছু শক্তিশালী পদক্ষেপের কথা চিন্তা করুন যে কিভাবে আপনি আপনার সন্তান, নাতি নাতনী, কিম্বা অন্যান্য ছেলেমেয়েরা যারা আপনার আশেপাশে রয়েছে তাদেরকে ঈসা মশীহের কথা শোনার জন্য নিয়ে আসতে পারেন ?
৫. কেন একটি শিশু একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের তুলনায় সহজেই আল্লাহর রাজ্যে প্রবেশ করতে পারে ?
৬. একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের চেয়ে কিভাবে একজন শিশু বর্তমানকে সহজে গ্রহণ করতে পারে ?
কিভাবে একটি শিশু এই মহান সত্যকে গ্রহণ করে: ঈসা মশীহের বন্ধুত্ব এবং গোনাহের ক্ষমা ? একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষই বা কিভাবে করবে ?
৭. কল্পনা করুন যে বেহেস্ত শুধুমাত্র ছেলেমেয়েদেরই। দুনিয়ার এই রাজ্যের সাথে তার কিভাবে পার্থক্য করা যায় ? (যে ধরণের যত্ম নেয়া হয়, যা তাদের জন্য করা হয়েছে ইত্যাদি)
আমাদের এই পাঠ্যাংশ আল্লাহর রাজ্য সম্বন্ধে কি শিক্ষা দেয় ?
৮. ঈসা মশীহ অন্য একটি সময়ে এই কথা বলেছিলেন ঃ ' আমি তোমাদের বলছি, আলেম ও ফরীশীদের ধার্মিকতার চেয়ে তোমাদের যদি বেশী কিছু না থাকে তবে তোমরা কোনমতেই বেহেশ্তী রাজ্যে ঢুকতে পারবে না' মথি (৫ ঃ ২০)। এখানে তিনি ওয়াদা করেছেন যে এমনকি ছেলেমেয়েরাও সেখানে প্রবেশ করতে পারে। এই মতপার্থক্যকে আপনি কিভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন ?
৯. সেইদিন সকালে ঈসা মশীহ যে সমস্ত ছেলেমেয়েদেরকে দোয়া করেছিলেন তারা এখন কয়েক দশক পার হয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক হয়েছে। সম্ভবতঃ তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভাল, আবার কেউ কেউ তত ভাল মানুষ হয়নি। কেউ কেউ সুখী, কেউ কেউ অসুখী। আপনি কি মনে করেন যে দোয়া তারা ঈসা মশীহের কাছ থেকে পেয়েছিল, তা আজও তাদের কাছে অর্থবহ স্থায়ী হয়ে আছে ? যদি হয়ে থাকে, তাহলে কেন এটি স্থায়ী ছিল ?
যে সমস্ত মায়েরা সেদিন উপস্থিত ছিল তাদের পরবতর্ী জীবনে, বিশেষ করে যখন তাদের সন্তানেরা জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল তখন এই দোয়া কি অর্থ বহন করেছিল ?
সুখবর ঃ সম্ভবতঃ এই সমস্ত ছেলেমেয়েদের মায়েরা চিন্তা করেছিল. ' ঈসা কখনই আমার সন্তান যাকে তিনি দোয়া করেছেন তাকে ভুলে যাবেন না।' আপনিও আপনার সন্তানের ক্ষেত্রে একইভাবে একথা বিশ্বাস করতে পারেন।
Version for printing
Downloads
Contact us
Web-master