Glad Tidings Bible Studies on Mark's Gospel

* সহজ ** মোটামুটি সহজ *** কিছুটা কঠিন

Mark
1. ১ সুখবরের শুরু মার্ক ১ঃ১-১১
***
2. ২ সুস্থ দেহে সুস্থ রুহ্ (২:১-১২)
*
3. ৩ ঈসা মশীহের জন্য ফাঁদ তৈরী (৩ঃ১-৬)
**
4. ৪ একটি ঝড়ের মধ্যে (৪ঃ ৩৫-৪১)
**
5. ৫ একটি আশাহীন ঘটনা (৫ঃ১-২০)
**
6. ৬ যখন দুঃখজনক ঘটনা ঘটে (৫ঃ২১-২৪, এবং ৩৫-৪৩)
**
7. ৭ একজন নারী যে তার নারীত্বের পরিচয় হারিয়েছিল (৫ঃ২৫-৩৪)
*
8. ৮ থালার উপরে মাথা (৬ঃ ১৬-১৯)
**
9. ৯ ২৫০০০ রুটি এবং ১০০০০ মাছ (মার্ক ৬ঃ৩০-৪৪)
**
10. ১০ এপ্ফাথা : খুলে যাক্ (৭ঃ৩১-৩৭)
**
11. ১১ একজন অন্ধ মানুষ যার নিজস্ব ইচ্ছা নেই ৮ঃ ২২-২৬
**
12. ১২ নিজের জীবন রক্ষা করা এবং তা হারানো (৮ঃ৩৪-৩৮)
***
13. ১৩ একজন আধা ঈমানদার ( ৯ঃ ১৪-২৯)
*
14. ১৪ বিপথগামীর পরিণতি (৯ঃ ৪২-৫০)
***
15. ১৫ ঈসা মশীহ এবং ছেলেমেয়েরা (১০ঃ১৩-১৬)
**
16. ১৬ দুনিয়াতে সম্পদ (১০ঃ ১৭-২৭)
*
17. ১৭ কে প্রধানমন্ত্রী হবে ? (১০ঃ ৩২-৪৫)
**
18. ১৮ একজন অন্ধু ভিক্ষুকের কান্না (১০ঃ৪৬-৫২)
*
19. ১৯ একটি অভিশপ্ত গাছ (১১-১৪ এবং ২০-২৫)
***
20. ২০ দৈহিক পুনরুত্থান নয়(১২ঃ১৮-২৭)
***
21. ২১ ঈসা মশীহের দ্বিতীয় আগমণ (১৩ঃ ১৪-৩২)
***
22. ২২ মহব্বত কখনও ব্যর্থ হয় না (১৪ঃ১-৯)
**
23. ২৩ একটি প্রহসন যাকে ঈসার বিচার বলা হয়েছে (১৫ঃ১-১৫)
**
24. ২৪ অবিশ্বাস্য পুনরুত্থান (১৬ঃ১-১১)
**

Print/view all lessons

© 2005 Glad Tidings Mission


১. সুখবরের শুরু মার্ক ১ঃ১-১১


পটভূমি ঃ তরিকাবন্দীদাতা ইয়াহিয়া পাক কিতাবের নবী ইলিয়াসের মত কাপড় পড়তেন। (তুলনা করুন ৬ আয়াত এর সাথে ২ বাদশাহনামা ১ঃ৮)। মরুভূমিতে ঘাসফড়িং ও মধু ছিল তার সাধারণ খাবার। কারো জুতা বহন করা ছিল একজন গোলামের কাজ।
দ্রষ্টব্য ঃ বাক্যবন্ধনীর মধ্যে দেয়া প্রশ্নগুলি তখনই জিজ্ঞাসা করতে হবে যখন কেউ তার আগের প্রশ্নটির উত্তর না দেবে।

১. যদি একজন ব্যক্তি একাকী তার সমস্ত যৌবনকাল একটি মরুভূমিতে কাটিয়ে দেয় তাহলে সে কি ধরণের অভিজ্ঞতা লাভ করে ? (চিন্তা করুনতো, তরিকাবন্দীদাতা ইয়াহিয়ার মরুভূমিতে প্রাত্যাহিক জীবন কেমন ছিল ?)
  • এই অংশে যে সময়ে কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তখন ইয়াহিয়ার বয়স ৩০ হয়েছে। এই বয়সে যুবকেরা সাধারণত যা করতে চায় কেন তিনি সেই বিষয়গুলি অনুসরণ করেননি ?
  • কেন হজরত ইয়াহিয়া তাঁর পরিচর্যা কাজ যেরুজালেমে অথর্াৎ, রাজধানীতে করেননি ?
  • হজরত ইয়াহিয়ার জনপ্রিয়তার গোপন রহস্য কি ছিল ?
    ২. কেন লোকেরা হজরত ইয়াহিয়ার মাধ্যমে তরিকা নিতে চাইতো তার কিছু কারণ চিন্তা করুন (৪-৫ আয়াত)?
  • হজরত ইয়াহিয়া তরিকা দেবার পূর্বে কেন লোকদেরকে জনসম্মুখে তাদের গোনাহের জন্য ক্ষমা চাইতে হতো (৫) ?
  • আপনার কি মনে হয় যদি জনসম্মুখে প্রথমে আপনাকে গোনাহ স্বীকার করে তারপর তরিকা নিতে হতো তাহলে কি আপনি তরিকা নিতেন ?
  • হজরত ইয়াহিয়ার পরিচর্যা কাজ কিভাবে ঈসা মশীহের জন্য পথ তৈরী করেছিল (২-৪)? (ঈসার পরিচর্যা কাজ শুরু করার আগে কেন হজরত ইয়াহিয়ার পরিচর্যা কাজের প্রয়োজন হয়েছিল ?)
    ৩. আমরা কিভাবে আমাদের হৃদয়ে ঈসা মশীহের প্রবেশের পথ প্রস্তুত করতে পারি (৩)?
  • কিভাবে আমরা অন্যান্য মানুষের জীবনেও ঈসা মশীহের প্রবেশের জন্য পথ প্রস্তুত করতে পারি (উদাহরণস্বরূপ আমাদের প্রিয়জনদের জীবনে) ?
    ৪. জনপ্রিয়তা কেন হজরত ইয়াহিয়াকে গর্বিত করে তোলেনি ?
  • কেন হজরত ইয়াহিয়া নিজেকে মূল্যবান মনে করেননি বরং আগত মশীহের পায়ের জুতা খুলতে চেয়েছিলেন ?
    ৫. হজরত ইয়াহিয়া ও ঈসা মশীহের তরিকাবন্দীর মধ্যে কি পার্থক্য রয়েছে (বিশেষতঃ ঈসায়ী তরিকার মধ্যে) ? (ঈসা (আঃ) তার উম্মতদেরকে রুহে তরিকাবন্দী দেবেন- এই কথার অর্থ কি (৮ আয়াত)?
  • এই অংশের আলোকে, কেন নাজাতের জন্য তরিকাবন্দী প্রয়োজনীয় ?
    ৬. যদিও ঈসা মশীহের তওবা করার মত কোন কিছুই ছিল না তবুও কেন তিনি তওবা করে তরিকাবন্দী নিতে চেয়েছিলেন ?
    ৭. ঈসা মশীহের তরিকাবন্দীর সময়ে কিভাবে ত্রিত্ত্ব আল্লাহর প্রকাশ ঘটেছিল ?
  • কেন মাবুদ পিতা তাঁর সন্তানের তরিকা নেবার সময়ে বেহেশ্ত থেকে তাঁর প্রতি নিজের মহব্বত সরাসরি প্রকাশ করেছিলেন ?
    ৮. কোন বিশেষ সময়ে বেহেশ্তী পিতা আপনার প্রতি দৃষ্টিপাত করেন, আপনি কি মনে করেন ১১ আয়াতটি তিনি আপনাকেও বলতে পারেন ? কারণগুলো ব্যক্ত করুন।

    সুখবর : ১১ আয়াতের কথাগুলো স্মরণ করিয়ে দেয় যখন মাবুদ আল্লাহ হজরত ইব্রাহিমকে বলেছিলেন ' তোমার ছেলেকে, অদ্বিতীয় ছেলে ইস্হাককে, যাকে তুমি এত ভালবাস তাকে নিয়ে তুমি মোরিয়া এলাকায় যাও। সেখানে যে পাহাড়টার কথা আমি তোমাকে বলবো তার উপরে তুমি তাকে পোড়ানো কোরবানী হিসাবে কোরবানী দাও (পয়দায়েশ ২২ঃ২)। ঈসা মশীহের তরিকাবন্দী ছিল তাঁর ক্রুশে মৃতু্যবরণ করার পথে প্রথম পদক্ষেপ।


    © 2005 Glad Tidings Mission

    ২. সুস্থ দেহে সুস্থ রুহ্ (২:১-১২)


    পটভূমি ঃ ঈসা মশীহের সময়ে ঘরের ছাদগুলি ছিল সমতল, যা চুনাপাথর এবং টালি দিয়ে তৈরী হতো; আমাদের বর্তমান সময়ের ছাদগুলি থেকে ঐ ছাদগুলি ভাঙ্গা সহজ ছিল। সেইসময়ে ঘরবাড়ীগুলোর বাইরের দিকে সিঁড়িপথ থাকতো যার মাধ্যমে ছাদে যাওয়া যেত। যদি কোন ব্যক্তি অবশ রোগে আক্রান্ত হয়, তাহলে তা হয় মাথার ভিতরে রক্তক্ষরণের কারণে, যা সাধারণত মধ্য বয়সে বা তার পরবতর্ী সময়ে হয়ে থাকে। এখানে ইব্নে-আদম বলতে ঈসা মশীহকে বুঝানো হয়েছে।

    ১. অবশ রোগীটির প্রতিদিনের জীবনযাপন সম্বন্ধে কল্পনা করুন। প্রতিদিন তাকে কি ধরণের সমস্যাগুলির সম্মুখীন হতে হত ? ( তার জন্য কি ধরণের যত্মের প্রয়োজন ছিল ? অসুস্থতার কারণে কিভাবে মানুষের সাথে তার সম্পর্কের পরিবর্তন ঘটেছিল ? ভবিষ্যতের জন্য তার পরিকল্পনা/স্বপ্ন কি ছিল ? তার জীবনের কি অর্থ ছিল ?)
  • যিনি এই অবশ রোগীকে যত্ম নিতেন তার প্রতিদিনের জীবনযাপন সম্বন্ধে চিন্তা করুন। এটি কেমন হতে পারে ?
    ২. আয়াত ৫ এর আলোকে আমরা এটি পরিস্কারভাবে বুঝতে পারি যে এই লোকটি গোনাহ্গার ছিল। যখন একজন মানুষ নিজেকে অন্য কোথাও সরাতে পারে না বা শারিরিক প্রতিবন্ধী হয় তখনও সে কি ধরণের পাপ করতে পারে ?
  • * আলোচনা করুন : আমাদের মানব জীবনে অসুস্থতা কি আমাদের ভাল করে না খারাপ করে ?
    ৩. যারা অবশ রোগীকে বহন করে এনেছিল তারা কারা ছিল ? বিভিন্ন সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা করুন।
  • ৩-৪ আয়াতে যেভাবে ঘটনা উল্লেখিত আছে সেই অনুসারে কি বিষয় লোকগুলোকে এত প্রত্যয়ী করে তুলেছিল ?
  • বাড়ী থেকে ধাপে ধাপে বন্ধুটিকে ঈসা মশীহের সামনে আনার জন্য এই লোকগুলিকে কি করতে হয়েছিল তা একবার চিন্তা করুন। ( কোনটি সহজ, কোনটি কঠিন ছিল ?)
    ৪. বন্ধুরা অবশরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিটিকে ঈসা মশীহের সামনে এনেছিল যেন সে সুস্থ হতে পারে। কেন ঈসা মশীহ প্রথমে তার গোনাহ্ ক্ষমা করলেন ? (ঈসা কেন এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করলেন ?)
  • গোনাহের ক্ষমা অবশ রোগীটির কাছে কি অর্থ বহন করেছিল ?
    ৫. মনে করুন, আপনি আপনার একটি মন্দ সমস্যা ঈসা মশীহের আনলেন, সমস্যাটি সমাধান করার পরিবর্তে তিনি বললেন: " আমার ছেলে/ মেয়ে, তোমার গোনাহ্ ক্ষমা করা হল!" আপনি কি দুঃখিত হবেন না আনন্দিত হবেন?
  • যদি আপনাকে পছন্দ করতে বলা হয়, তাহলে আপনি কোনটি পছন্দ করবেন : আপনার সমস্যার সমাধান হয়নি কিন্তু আপনার একটি ভাল বিবেকবোধ রয়েছে ? অথবা আপনার সমস্যার সমাধান হয়েছে কিন্তু বিবেক আপনাকে বার বার কষ্ট দিচ্ছে ?
  • গোনাহ থেকে ক্ষমা পাবার কারণে যখন অবশরোগীটির হৃদয় আলোকিত হল, তখন শারিরীক সুস্থতার কারণে তার আচরণ কেমন ছিল ?
    ৬. ৫ আয়াতে ঈসা কাদের ঈমানের কথা বলেছেন- ভাল করে বাক্যটির গঠন খেয়াল করুন।
  • কোন মূহুর্ত থেকে অবশ রোগীটি ঈসার উপর ঈমান আনতে শুরু করলো ?
    ৭. ৯ আয়াতে ঈসা মশীহ যে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন তার উত্তর দিন। (ঈসা লোকটিকে সুস্থ করলেন এর অর্থ কি ? তিনি লোকটির গোনাহ্ ক্ষমা করলেন এরই বা মূল্য কি ?)
    ৮. এই অংশটুকু শুধুমাত্র ঈমান সম্বন্ধেই বলে না কিন্তু অবিশ্বাস সম্বন্ধেও বলে। কেন আলেমেরা বিশ্বাস করতে চাইছিলেন না যে ঈসা মশীহ গোনাহ্ ক্ষমা করতে পারেন ?
    ৯. কিভাবে আমরা আমাদের প্রিয়জনদেরকে যারা নিজেরা ঈসা মশীহের কাছে আসতে পারে না বা আসতে চায় না তাদেরকে তাঁর কাছে 'নিয়ে' আসতে পারি (তারা কোথায় ঈসা মশীহের সাথে মিলিত হতে পারে ?)
    ১০. ঈসা মশীহ আপনাকে এই কিতাবী আলোচনার মধ্য দিয়ে পরিচালনা করেছেন যেন তিনি আপনাকে এই কথা বলতে পারেন : ' আমার ছেলে/মেয়ে, তোমার গোনাহ্ ক্ষমা করা হল।" আপনার বর্তমান পরিস্থিতিতে এই কথাগুলি আপনার কাছে কি অর্থ বহন করে ?


    © 2005 Glad Tidings Mission

    ৩. ঈসা মশীহের জন্য ফাঁদ তৈরী (৩ঃ১-৬)


    পটভূমি ঃ ঈসা মশীহ এবং তাঁর প্রতিপক্ষের মধ্যে বিশ্রামবার নিয়ে প্রথমে যে বির্তক হয়েছিল তা ২ঃ ২৩-২৪ আয়াতে উল্লেখ করা আছে। এটি হচ্ছে দ্বীতিয়বার। বিশ্রামবার পালন করা

    ১. শুকিয়ে যাওয়া হাতটি ঐ লোকটির দৈনন্দিন জীবনে কি রকম প্রভাব ফেলতো ? (তার কাজ, অর্থনৈতিক বিষয়, তার পরিবার, আল্লাহর সাথে তার সম্পর্ক ? একজন মানুষ যে শুধুমাত্র তার একটি হাত ব্যবহার করতে পারে তার জন্য কি ধরণের কাজ সচারচর পাওয়া যেতে পারে?)
  • ৫ আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারি যে সেই লোকটির হাত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছিল। আপনি কি মনে করেন কি কারণে এই ব্যক্তির হাত শুষ্ক হয়ে গিয়েছিল, এটি কি কোন দূর্ঘটনার কারণে ?
  • এই ব্যক্তির চরিত্র সম্বন্ধে আপনি এই পাঠ্যাংশটুকুর মধ্য থেকে কি ধারণা পান ?
    ২. ঐদিন সকালে মজলিশ-খানাতে কি ধরণের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল ?
  • আমরা এই পাঠ্যাংশের মধ্য দিয়ে এই সিদ্ধান্তে যেতে পারি যে ঐ লোকটি সুস্থ হবার জন্য মজলিশখানায় আসেনি। সে কি কারণে এসেছিল ?
  • কেন লোকটি ঈসা মশীহের কাছে সাহায্য চায়নি ?
  • বিশ্রামবারের দিন এই লোকটি এবং ফরিশীদের মজলিশখানায় আসার যে উদ্দেশ্য ছিল তার তুলনা করুন।
    ৩. কেন ফরিশীরা ঈসা মশীহকে সামনাসামনি অভিযুক্ত করলেন না ? তারা ঈসাকে নিয়ে কি ভুল চিন্তা করেছিল ?
  • ফরিশীরা শুকনো হাতের লোকটি সম্পর্কে কি চিন্তা করেছিল ?
    ৪. লোকটি যে স্থানে দাঁড়িয়ে ছিল সেই স্থানে সুস্থ না করে কেন ঈসা মশীহ সেই লোকটিকে সবার সামনে দাঁড়াতে বললেন ?
  • আপনার কি মনে হয় লোকটি শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির অনুরোধে সামনে দাঁড়িয়েছিল ?
    ৫. ৪ আয়াতে ঈসা মশীহ বুদ্ধিপূর্বক তার প্রতিপক্ষের সামনে নিজের ইচ্ছার কথা তুলে ধরেছেন। 'প্রাণ রক্ষা করা বা নষ্ট করা'-এই ধরণের গভীর কথার মধ্য দিয়ে ঈসা মশীহ কি বুঝাতে চেয়েছেন ? (ফরিশীদের আচরণ কিভাবে এই লোকটির মৃতু্য ঘটাতে পারে ? কিভাবে ঈসা তাকে রক্ষা করলেন ?)
    ৬. সুখবর সমূহে খুব কমই ঈসা মশীহের রাগ সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন ঈসা মশীহ এই পরিস্থিতিতে রাগ করলেন ও দুঃখ পেলেন (৫) ?
    ৭. যখন লোকটিকে বলা হল যে তোমার হাত বাড়িয়ে দাও, তখন সে ঈসা মশীহ সম্বন্ধে কি বিশ্বাস করছিল ?
  • আপনার কাছ থেকে আজ ঈসা মশীহ কি ধরনের ঈমানের পদক্ষেপ আশা করছেন?
    ৮. ঈসা মশীহের কাজ ও কথার মধ্যে এমন কি ছিল যার ফলে ফরিশীরা ঈসার উপর খুব রেগে গেল এবং তাঁকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করতে শুরু করলো ?
    ৯. নিজের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলেও কেন এই লোকটিকে সুস্থ করা ঈসা মশীহের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল ?
  • যদিও তিনি মানুষকে সাহায্য করতেন ও রক্ষা করতেন (৪) তবুও তাকে কেন হত্যা করা হয়েছিল ?

    সুখবর : বিশ্রামবার সম্বন্ধে যে শিক্ষা ঈসা মশীহ দিয়েছেন তা ফরিশীদের দেয়া শিক্ষা থেকে অনেক ভিন্ন ছিল। ফরিশীদের কাছে এর অর্থ ছিল মানুষের জন্য শুধুমাত্রই একটা আইন বা শরিয়ত যা সম্পূর্ণভাবে পালন করলে মানুষ নাজাত পেত। ঈসা মশীহের কাছে এটি ছিল সুখবরের একটি চিত্র- এটি ছিল সেই বিশ্রাম যা আল্লাহ তাদেরকেই দেবেন যারা তাদের গোনাহের জন্য ক্ষমার উপর ঈমান আনবে (ইব্রানী ৪:৯-১০)।


    © 2005 Glad Tidings Mission

    ৪. একটি ঝড়ের মধ্যে (৪ঃ ৩৫-৪১)


    পটভূমি ঃ ঈসার সাহাবীদের মধ্যে চারজন পেশাদার জেলে ছিলেন। গালীল হ্রদের সমস্ত কিছু তাদের নখদর্পণে ছিল।

    ১. গালীল সাগরটি ২০ী১২ কিলোমিটার ছিল। এধরণের একটি সাগর আড়াআড়ি পার হতে আনুমানিক কত সময় লাগতে পারে ?
  • সন্ধ্যার দিকে যদি আপনাকে কেউ এ ধরনের একটি হৃদ বা সাগর আড়াআড়ি পার হতে বলে তাহলে আপনি কি চিন্তা করবেন ?
  • দিনের ঐ সময়ে ঈসা যখন তাদের সাগরটি পার হতে বললেন তখন কেন সাহাবীরা তাকে আদৌ কোন প্রতিবাদ করেননি ?
    ২. ঝড়েরও মধ্যে প্রায় পানিতে ভরে ওঠা একটা নৌকায় একজন ব্যক্তি কি কারণে ঘুমাতে সমর্থ? এর বিভিন্ন কারণ খুঁজে বের করুন। (এটি আল্লাহর সাথে তাঁর সম্পর্ক এবং তাঁর নিজের মৃতু্যর বিষয়ে আমাদের কাছে কি প্রকাশ করে ?)
    ৩. পানিতে ভেসে থাকার জন্য সাহাবীরা কি ধরণের পদক্ষেপগুলি নিয়েছিল বলে আপনার মনে হয় ?
  • এই পরিস্থিতিতে কেন সাহাবীরা আল্লাহর শক্তির উপর ঈমান রাখতে পারেনি ?
    ৪. আপনি কি এমন কোন পরিস্থিতিতে কখনও পড়েছেন যখন আপনার মনে হয়েছে যে আপনি ডুবে(৩৮) যাচ্ছেন কিন্তু ঈসা মশীহ ঘুমিয়ে রয়েছেন এবং আপনার ও আপনার প্রিয়জনের বিষয়ে একটুও খেয়াল করেননি ? এ সম্পর্কে কিছু বলুন।
  • ৩৮ আয়াত মূলত একটি মোনাজাত। এই আয়াতের মধ্য দিয়ে আমরা মোনাজাত সম্পর্কে কি শিক্ষা পাই ?
    ৫. যখন সাহাবী তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সাহায্য পেলেন তখন তারা কেন আশ্চর্যান্বিত হলেন ?
  • আপনি শেষবারের মত যখন সমস্যায় পড়েছিলেন, তখন সাহাবীদের মত কি পছন্দ বা অপছন্দ করেছিলেন ?
    ৬. আমাদের সমস্যার সময়ে কি রকমের সহায়তা ঈসা মশীহের কাছ থেকে আশা করা উচিৎ ?
    ৭. বাতাস ও ঝড় সত্যিই যে ঈসা মশীহের ধমক শুনেছিল (৩৯), এটি বিশ্বাস করা আপনার জন্য সহজ না কঠিন ? আপনার কারণগুলো বলুন।
  • ঈসা মশীহ ঝড়ের ঐ মূহুর্তের মধ্যে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, 'থাম, শান্ত হও।' তাঁর এই কালাম আপনার পরিস্থিতিতে কি অর্থ বহন করে ?
    ৮. ৪০ আয়াতে উল্লেখিত কথাটি সাহাবীরা যখন ঈসা মশীহের কাছ থেকে শুনতে পেল তখন তারা কেমন অনুভব করেছিল ?
  • ৪০ আয়াতে ঈসা সাহাবীদের যা বলেছেন তা যদি তিনি আপনাকেও বলেন তাহলে আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন হবে ?
    ৯. এই দুই ধরণের ভয় কিভাবে সাহাবীদের একে অন্যের থেকে আলাদা করে : মৃতু্যর ভয় এবং পরে ঈসা মশীহের কেরামতী কাজ করার পর ভয় (৪০-৪১) ?
    ১০. ঈসা মশীহ কেন সেই লোকদেরও সাহায্য করেন যাদের ঈমানের ঘাটতি রয়েছে ?
  • এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে কিভাবে সাহাবীদের ঈমান পরিবর্তিত হয়ে গেল?
  • যে ধরণের সমস্যার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আপনি এখন যাচ্ছেন তা কিভাবে আপনার বিশ্বাসকে পরিবর্তন করতে পারে বলে আপনি মনে করেন ?

    সুখবর : সাহাবীরা ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন, কিন্তু ঈসা মশীহ রক্ষা পাননি। ক্রুশে পেরেকবিদ্ধ হবার করার অর্থ নিঃশ্বাস বন্ধ করে ডুব দেয়া , একেবারে ঠিক ডুবে মৃতু্যবরণ করার মত। দলনেতা জবূর শরীফ ৬৯ঃ১-২ এবং ১৪-১৫ আয়াত পড়বেন। এটি এমন একটি গান যেখানে ঈসা মশীহের ক্রুশে মৃতু্যবরণের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। আমাদের আগুনের হ্রদে (প্রকাশিত কালাম ২০ঃ১৪) ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য ঈসা মশীহ মূল্য দিয়েছেন।


    © 2005 Glad Tidings Mission

    ৫. একটি আশাহীন ঘটনা (৫ঃ১-২০)


    পটভূমি ঃ এই পাঠ্যাংশের মধ্যে উল্লেখিত ব্যক্তিটি সম্ভবত পৌত্তলিক (ইহুদি, ঈসায়ী, মুসলিম ধর্ম পালন করে না এমন) ছিল, কারণ সে গালীল হ্রদের পূর্বদিকে বাস করত। পৌত্তলিকেরা শূকরের পাল চরায় এবং তা খায়, যা ইহুদিদের জন্য অনুমোদিত ছিল না। কোন কোন সময় প্রতিমা পূজার মধ্য দিয়ে মন্দ আত্মা তাদের মধ্যে জায়গা করে নিত। একটি বাহিনী ছিল প্রাচীন রোমের ৬০০০ সৈন্যের সমতুল্য।

    ১. ভূতে পাওয়া লোকটির পরিবার ছিল (১৯)। লোকটিকে তার ভয়াবহ পরিণতি থেকে রক্ষা করার জন্য তারা কি করেছিল ?
  • এরকম পরিস্থিতিতে লোকটির স্ত্রী, সন্তান এবং অভিভাবকদের জন্য খারাপ বিষয় কি ছিল(৩-৫)?
  • এই অংশের আলোকে আমাদের বর্তমান সময়ে কি ধরণের লোকেরা একই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আশাহীন হতে পারে ?
    ২. ৩-৭ আয়াতের আলোকে কোন কাজটি সেই লোক নিজ থেকে করতো এবং কোন কোন কাজ সে সেই খারাপ আত্মার প্রভাবে করতো ?
  • এই লোকটি ঈসা মশীহের কাছে কি চেয়েছিল ( ৬-৭) ? (এই লোকটির আচরণে আপনি কি অসঙ্গতি বা পার্থক্য দেখতে পান ?)
    ৩. এই লোকটি কিভাবে আগে থেকেই ঈসা মশীহের সম্বন্ধে জানতো , এবং কোথা থেকে সে তা জানতে পেরেছিল ? (৭)
    ৪. একজন মানুষের মধ্যে ৬০০০ ভূতেরা প্রবেশ করার কারণ কি হতে পারে ?
  • ঈসা মশীহ এবং ভূতে পাওয়া লোকটির আলাপের মধ্য দিয়ে আমাদের অদেখা দুনিয়ার শক্তি সম্বন্ধে কি প্রকাশ পায় ? (৮-১৩)
  • কেন ঈসা মশীহ ভূতেরা যা করতে চেয়েছিল তা করতে দিয়েছিলেন ?
  • এই কিতাবী আলোচনায় যারা অংশগ্রহণ করছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভূত অথবা অন্ধকারে ভয় পেয়ে থাকেন। এই ধরণের ব্যক্তিদেরকে কিতাবে এই অংশ কি স্বান্তনা দিতে পারে ?
    ৫. কেন গেরাসেনীরা তাদের প্রতিবেশী আবার সুস্থ হয়ে উঠলেও আনন্দিত হতে পারলেন না ? (১৪-১৭)
  • বর্তমান সময়ে ২০০০ শূকরের দাম কত ?
  • যদি একজন ব্যক্তিকে রক্ষা করবার জন্য ঈসা আপনার সমস্ত সম্পত্তিকে ধ্বংস করে ফেলেন তাহলে আপনার প্রতিক্রিয়া কি হবে ?
    ৬. এই লোকটির জীবনে কি কি বিষয় পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল ?
  • আপনি কি মনে করেন ঈসা মশীহের সাথে মিলিত হবার পরে, লোকটির গোরস্থানে কাটানো বছরগুলি সম্পর্কে কি ভেবেছিল ? (ঈসা মশীহ কিভাবে এই লোকটির জীবন বিয়োগ থেকে একটি বড় যোগে পরিণত করলেন ?)
    ৭. কেন ঈসা মশীহ চাইলেন না যে লোকটি তাঁর সঙ্গে আসুক ? (১৮-১৯)
  • কেন ঈসা মশীহ এই পৌত্তলিক ব্যক্তিকে এই আশ্চর্যকাজ সম্পর্কে বলতে বলেছেন ? যদিও তিনি মাঝে মধ্যে ইহুদিদেরকে তা করতে বারণ করেছেন ?
    ৮. ১৯ আয়াতের উল্লেখিত অংশটি ঈসা আজ আমাদের সবাইকে বলছেন। আপনার বর্তমান পরিস্থিতিতে এই আয়াতটি আপনার কাছে কি অর্থ বহন করে ? ( কি এমন মহৎ বিষয় আছে যা প্রভু আপনাকে আপনার পরিজনের কাছে তুলে ধরতে বলেন ?)
  • এই পাঠের আলোকে, একটি আশাহীন ঘটনার সময় আপনি কিভাবে একজন ব্যক্তির প্রতি মনোযোগ দিতে পারেন ?
    ৯. শয়তান বা ইবলিশের সাথে প্রতিযোগীতায় ঈসা মশীহ এখানে ১০-০ পয়েন্টে বিজয়ী হয়েছেন। কিন্তু তারপরও কেন তিনি কালভেরীতে প্রতিযোগিতায় হেরেছিলেন ?

    সুখবর : দলনেতা এসময় কিতাব থেকে ইশাইয়া ৫২:১৪ এবং ৫৩:৩ আয়াত পাঠ করতে পারেন। গেরাসীনের এই লোকের সাথে ঈসা মশীহের ক্রুশে থাকার মধ্যে একটি মিল রয়েছে। ঐ সময়ে 'বাহিনী' দেরকে তাঁকে কষ্ট দেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। এটা ঘটেছিল এই কারণে যে, সেই সময়ে ঈসা মশীহ মাবুদের সামনে আমাদের গোনাহের জন্য দোষী সাব্যাস্ত হয়েছিলেন।




    © 2005 Glad Tidings Mission

    ৬. যখন দুঃখজনক ঘটনা ঘটে (৫ঃ২১-২৪, এবং ৩৫-৪৩)


    পটভূমি ঃ ইহুদিদের মজলিশখানার নেতা হিসাবে শহরের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গরাই নির্বাচিত হত। শুধুমাত্র যায়ীর ছাড়া সমস্ত সুখবরে মজলিশখানার যে সমস্ত নেতাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তারা ঈসা মশীহের বিপক্ষ ছিলেন। যায়ীরের শুধুমাত্র একটি সন্তান ছিল। (লূক ৮ঃ৪২)

    ১. অনেক দিন অপেক্ষা করার পর সন্তান এসেছে এমন একটি পরিবারের প্রতিদিনের কথা চিন্তা করুন।
    ২. যখন একটি সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়ে তখন পরিবারের অভিভাবকের অবস্থা কেমন হতে পারে? এর বিভিন্ন সম্ভাবনাগুলির কথা চিন্তা করুন।
  • যায়ীরের মেয়েটি যখন অসুস্থ হয়েছিল তখন আল্লাহ সাথে যায়ীরের সম্পর্ক কেমন ছিল বলে আপনার মনে হয় ?
    ৩. যায়ীর কেন এমন একজন লোকের কাছে সাহায্য চাইলেন যে তার নিজের স্থানে যেখানে সে চলাফেরা করছিল সেখানে জনপ্রিয় ছিল না ?
  • যায়ীর ঈসা মশীহের কাছে যে ভাবে সাহায্য চাইলেন তা থেকে আমরা যায়ীর সম্বন্ধে কি শিক্ষালাভ করতে পারি ? (২২-২৩)
    ৪. একজন বাবা যখন তার ঘর থেকে কোন খারাপ সংবাদ শুনতে পায় তখন সেই বাবার মনের অবস্থা কি রকম হয় ?
  • আপনার কি কখনও এমন মনে হয়েছিল যে আপনি ঈসাকে কোনভাবে বিরক্ত করবেন না? কখন আপনার এমনটি ঘটেছিল ?
    ৫. কেন ঈসা মশীহ যায়ীরকে ভয় না পেতে বললেন যদিও তার জীবনে একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিল (৩৬) ?
  • এই দুনিয়াতে আপনি সবচেয়ে কি বেশী ভয় পান ? (আপনি আপনার হৃদয় থেকে উত্তর দিতে পারেন)।
  • যখন আপনার জীবনে কোন দুঃখজনক ঘটনা ঘটে গেছে সে মূহুর্তে যদি ঈসা মশীহ আপনাকে বলেন ভয় কোরো না, তখন আপনার প্রতিক্রিয়া কি হবে ?
    ৬. ঈসা মশীহ আজকে আপনাকে বলছেন ' ভয় কোরো না, কেবল বিশ্বাস কর'। আপনার বর্তমান পরিস্থিতিতে এই কথাগুলো কি অর্থ বহন করে ?
  • যদিও মেয়েটি মারা গিয়েছিল তবুও যায়ীর কি বিশ্বাস করেছিল ?
  • যদি যায়ীর ঈসা মশীহের উপর ঈমান না রাখতো তাহলে সে কি করতো ?
    ৭. যায়ীরের স্ত্রী দেখেছিল যে তার স্বামী যখন চলে গেছে তখন তার সন্তানটিও মারা গেছে। আপনি কি মনে করেন যখন ঈসা মশীহ এবং স্বামী তাদের বাসায় ফিরে এসেছিল তখন তার মানসিক অবস্থা কেমন ছিল ?
  • যখন ঈসা মশীহ যায়ীরের বাড়ীতে পৌঁছালেন তখন মেয়েটিকে সমাধিস্থ করার সব প্রস্তুতিই চলছিল। ৩৯ আয়াতের মধ্য দিয়ে ঈসা মশীহ সেখানে উপস্থিত আত্মীয় পরিজনদেরকে কি বলতে চেয়েছিলেন ?
    ৮. কিভাবে ঈসা মশীহ মেয়েটিকে মৃত থেকে জীবিত করলেন তা ভালভাবে পড়ুন (৪১-৪৩)। বিশেষভাবে কোন বিষয়টি আপনার কাছে সবচেয়ে কৌতুহলপূর্ণ ?
    ৯. কেন ঈসা মশীহ তাঁর এই কেরামতী কাজ সম্বন্ধে অন্যদের কাছে বলতে কড়াকাড়িভাবে নিষেধ করলেন, যদিও এটি তাঁর পরিচর্যা কাজের জন্য একটি ভাল দিক ছিল ?
    ১০. এই ঘটনাটি সেই মেয়েটির জীবনে কি প্রভাব ফেলেছিল ? কিভাবে এটি তার ভবিষ্যত জীবনকেও প্রভাবিত করেছিল ?
  • এই ঘটনার পরে মেয়েটির পিতামাতার জীবন কিভাবে পরিবর্তিত হয়েছিল ?
  • পরবতর্ীতে এই পরিবারটি যখন ঈসা মশীহের মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হবার গুজব শুনেছিল তখন তারা কি চিন্তা করেছিল ?

    সুখবর : 'ভয় কোরো না, কেবল বিশ্বাস করো' ঈসা মশীহের মুখ থেকে এই কথা শোনার অর্থ হচ্ছে যে ' এই জিনিষটি আমার কাছে দাও, আমি এর যত্ম নেব।' ঈসা মশীহ শুধু একটি বিষয়েই ভীত হয়েছিলেন, তাঁর বেহেস্তী পিতার কাছ থেকে পৃথক হওয়া। গেৎশীমানী বাগানে যখন তাঁর ঘাম রক্তে পরিণত হয়েছিল তখন তিনি খুবই ভয় পেয়েছিলেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের দেখিয়েছেন যে আল্লাহর কাছ থেকে পৃথক হওয়া (এটি হল : দোজখ) হল এমন একটি বিষয় যে বিষয়ে আমাদের ভয় পাওয়া উচিৎ। যারা তাঁর উপর ঈমান আনে তাদের জীবনের সমস্ত কিছু তিনি রহমতে পরিবর্তন করতে পারেন এবং করবেন।


    © 2005 Glad Tidings Mission

    ৭. একজন নারী যে তার নারীত্বের পরিচয় হারিয়েছিল (৫ঃ২৫-৩৪)


    পটভূমি ঃ মূসা নবীর শরিয়ত অনুসারে একজন নারীকে রক্তস্রাবকালীন সময়ে ধমর্ীয়ভাবে নাপাক হিসাবে গণ্য করা হতো। তখন কেউ সেই মহিলাকে বা তাঁর ছোঁয়া কোন বস্তুকে স্পর্শ করতে পারতো না। এসময়ে সে কোনভাবেই এবাদতখানায় প্রবেশ করতে পারতো না (লেবীয় ১৫)।

    ১. ধরুন এই অংশে যে মহিলার কথা বলা হয়েছে তার বয়স ত্রিশ অথবা চলি্লশের কাছাকাছি। তিনি অসুস্থ হয়েছিলেন যখন তার বয়স আরো কম ছিল। যদি তিনি বিয়ে করতেন তাহলে এই অসুস্থতা তার জীবনে কি ধরণের প্রভাব ফেলতো ? বিয়ে না করলেও কি হতো ?
  • সবসময় রক্তস্রাব হওয়া সেই মহিলাটির শারিরীক অবস্থাকে কোন জায়গায় দাঁড় করিয়েছিল ?
  • এধরণের অসুস্থতা একজনের ব্যক্তিসত্ত্বায় কি ধরণের প্রভাব ফেলে ?
    ২. অনেক অল্প বয়স থেকে এই ধরণের রোগ বহন করতে করতে আল্লাহ সম্বন্ধে তার কি চিন্তা ছিল বলে আপনি মনে করেন ?
  • অনেক বছর ধরে অসুস্থ থাকার কারণে মাবুদ আল্লাহর সাথে তার সম্পর্ক কেমন পরিবর্তিত হয়েছিল বলে মনে হয় ?
    ৩. ২৬ আয়াত আমাদের বলে যে একসময় এই মহিলার বেশ কিছু সম্পত্তি ছিল। কোথা থেকে এই মহিলা অর্থ পেয়েছিল এবং সত্যিকারভাবে কি উদ্দেশ্যে তা ব্যবহৃত হয়েছিল তার সম্ভাব্য কারণগুলো চিন্তা করুন।
    ৪. আমরা ধারণা করতে পারি যে সেই সময়ে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা যথেষ্ট পেশাদারী ছিল না। কেন এই মহিলাটির সুস্থ হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যার জন্য তিনি যে কোন চিকিৎসা গ্রহণের জন্য আগ্রহী ছিলেন এবং তার সমস্ত অর্থ বিভিন্ন চিকিৎসকদের কাছে ব্যয় করেছিলেন ?
  • তার জীবনের এই অবস্থায় এসে সমস্ত চিকিৎসক ও সুস্থতাদানকারীদের সম্বন্ধে এই মহিলার কি ধারণা ছিল বলে আপনার মনে হয় (২৬)?
  • ঈসা মশীহ ও অন্যান্য সুস্থতাদানকারীদের মধ্যে পার্থক্য কি কি ?
    ৫. এই মহিলা যে বিভিন্ন নিরাময়কারীদের কাছে গিয়ে হতাশ হয়েছেন, তিনি কিভাবে নিশ্চিত হলেন যে ঈসা মশীহের কাপড় স্পর্শ করামাত্রই তিনি সুস্থ হবেন ?(২৮)
  • আপনিও কি নিশ্চিন্ত যে সেই নারীর মত ঈসা মশীহও আপনার যে কোন কঠিন সমস্যার সমাধান করে দিতে পারেন ?
    ৬. অন্যান্য অসুস্থ ব্যক্তিরা যেভাবে ঈসা মশীহের কাছে সুস্থ হবার জন্য সাহায্য চাইতেন, এই মহিলা কেন তা চাননি ?
  • সুস্থ হবার জন্য কেন এই মহিলা স্পর্শ করাকেই বেছে নিলেন ?
    ৭. কিভাবে ঈসা মশীহ জানতে পারলেন যে কেউ একজন তার কাপড় স্পর্শ করেছে ?
  • কেন ঈসা মশীহ তার সাথে কথা না বলার আগে বাড়ীতে যেতে দিলেন না ?
    ৮. ৩০ আয়াতে ঈসা মশীহ যে প্রশ্ন করেছেন তা যখন সেই মহিলাটি শুনেছিল তখন তার অনুভূতি কেমন হয়েছিল বলে আপনার মনে হয় ?
  • যখন ঈসা মশীহ ঘুরে দাঁড়িয়ে মহিলাটির মুখের দিকে তাকিয়েছিলেন তখন মহিলাটি ঈসা মশীহের চোখে কি দেখতে পেয়েছিলেন ?(৩২)
    ৯. মহিলাটি ঈসা মশীহের কাছে একটি কথা বলার জন্যও প্রস্তুত ছিলেন না, কিন্তু শেষে তিনি তার সমস্ত সত্য ঘটনাই খুলে বললেন। তিনি কি বলেছিলেন (৩৩)?
  • আপনি কি কখনও আপনার নিজের জীবনের সমস্ত সত্য ঘটনা ঈসা মশীহের কাছে বলেছেন ? যদি না বলে থাকেন, তাহলে কেন ?
    ১০. ৩৪ আয়াত দুইভাবে অনুবাদ করা যেতে পারে : 'তুমি বিশ্বাস করেছ বলে সুস্থ হয়েছো', অথবা ' তুমি বিশ্বাস করেছো বলে রক্ষা পেয়েছো'। কেন ঈসা মশীহ এই কথাগুলো সেই মহিলাটিকে বলতে চেয়েছিলেন ?
  • কেন ঈসা মশীহ এই মহিলাটিকে তার মেয়ে (মা) হিসাবে ডেকেছিলেন যদিও সম্ভবতঃ তাদের বয়স প্রায় কাছাকাছি ছিল ?

    সুখবর : ঈসা মশীহ নিজেও নাপাক হয়েছিলেন যখন তারা ক্রুশ থেকে তাঁর রক্ত পতিত হয়েছিল। যারা তাকে স্পর্শ করেছিল তারাও নাপাক হয়েছিল। মহিলাটিকে রক্ষা করার জন্য ঈসা মশীহ এই মূল্য দিয়েছিলেন- এবং সেই সাথে আপনাকে রক্ষা করার জন্যও!






    © 2005 Glad Tidings Mission

    ৮. থালার উপরে মাথা (৬ঃ ১৬-১৯)


    পটভূমি ঃ হেরোদ সত্যিকার অর্থে একজন বাদশাহ্ ছিলেন না কিন্তু তিনি শুধুমাত্র প্রাচীন রোমীয়দের অনুমোদনে ফিলিস্তিনের একটি অংশের উপর শাসনকর্তা হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন। যখন ইহুদিদের ইতিহাস লেখক যোষেফাস হেরোদের বিয়ের সম্বন্ধে লেখেন, তিনি একই বিষয়ই বলেছেন যা ইঞ্জিল শরীফে লেখা আছে। তিনি অবশ্য হেরোদের যুবতী মেয়ের নামও উল্লেখ করেছেন। তাকে সালোমী বলে ডাকা হতো। তরিকাবন্দীদাতা ইয়াহিয়া বয়স যখন ৩০ তখন তিনি গ্রেপ্তার হন।
    ১. হেরোদ কেন তার ভাইয়ের স্ত্রীকে অন্যায়ভাবে পেতে চেয়েছিলেন তার বিভিন্ন কারণগুলি চিন্তা করুন।
  • কেন হেরোদিয়া হেরোদকে বিয়ে করতে চেয়েছিল এবং তার স্বামীকে ত্যাগ করতে চেয়েছিল তার কারণগুলো বের করুন।
    ২. কেন তরিকাবন্দীদাতা ইয়াহিয়া হেরোদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মাথা ঘামালেন যদি তিনি জানতেন যে এটি বিপদজনক ?
  • যদি কেউ এসে আপনার ব্যক্তিগত গোনাহ্ নিয়ে তীব্রভাবে তিরস্কার করে তাহলে আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন হবে ?
  • কেন হেরোদিয়া ইয়াহিয়া(আঃ)কে তার স্বামী যতটা ঘৃণা করতো তার চেয়ে বেশী ঘৃণা করতেন ? (১৯-২০)
    ৩. আপনার কি মনে হয় তরিকাবন্দীদাতা ইয়াহিয়া যখন জেলের মধ্যে ছিলেন তখন তিনি কিছু চিন্তা করেছিলেন? (আপনি কি মনে করেন তিনি কি হেরোদকে সমালোচনা করার জন্য একবারও দুঃখিত হয়েছিলেন?)
    ৪. শুধুমাত্র একজন কয়েদি হওয়া সত্ত্বেও কেন হেরোদ ইয়াহিয়াকে ভয় করতেন ?
  • কয়েদী হওয়া সত্ত্বেও ইয়াহিয়া কেন হেরোদকে ভয় করতেন না ?
  • ইয়াহিয়ার কথার মধ্যে এমন কি থাকতো যা হেরোদকে উদ্দীপিত করে তুলতো ?

    ৫. হেরোদিয়া মেয়ে তখন কিশোরী। এই বয়সে সে কি ধরণের জীবন যাপন করতো তা আলোচনা করুন।
  • মা এবং মেয়ের মধ্যে কি ধরণের সম্পর্ক ছিল সে সম্বন্ধে এই কাহিনী আমাদেরকে কি চিত্র দেখায় ? (২১-২৮)
  • কেন মেয়েটি একটি ঘোড়া কিম্বা নৌকা অথবা তার জন্মদিনের জন্য একটি সুন্দর জামা চায়নি, যা এই বয়সের মেয়েরা চায় ?
    ৬. কেন হেরোদিয়া এবং তার মেয়ে ইয়াহিয়ার মাধা চাইলেন ? কেন শুধুমাত্র তাকে মেরে ফেলাই যথেষ্ট ছিল না ? এবং কেন মাথা থালাতে আনা হয়েছিল, কোন বস্তা বা বা<েষর> করে নয় ?
  • এই অংশে আপনি কতজন হত্যাকারীকে খুঁজে পান ?
  • এই ঘটনা মেয়েটির ভবিষ্যত জীবনে কি প্রভাব ফেলবে বলে আপনি মনে করেন ?
    ৭. ২৬ আয়াত হেরোদ সম্বন্ধে আমাদের কাছে কি প্রকাশ করে ?
  • কেন ইয়াহিয়ার হত্যা অন্যান্য আরো অনেক সন্ত্রাসী কার্যকলাপের চেয়ে হেরোদের জীবনে একটি বড় প্রভাব ফেলেছিল ?(১৬)
    ৮. আপনার কি মনে হয় ইয়াহিয়া তার শেষ মূহুর্তে কি ভেবেছিলেন ?
  • মশীহের অগ্রদূতকে কেন এমন দূর্ভাগ্যজনকভাবে মরতে হল ?
    ৯. হজরত ইয়াহিয়ার সাহাবীরা তাদের গুরুর এই দর্ূভাগ্যজনক পরিণতি সম্বন্ধে কি চিন্তা করেছিলেন বলে আপনার মনে হয় ? (২৯)
  • আপনার কি মনে হয় যে হজরত ইয়াহিয়ার জীবন খুব তাড়াতাড়িই শেষ হয়ে গিয়েছিল ? কারণ দেখান।
  • হেরোদ ও হেরোদিয়ার জীবনের সাথে হজরত ইয়াহিয়ার জীবনের তুলনা করুন।
  • ঈসা মশীহ ও হজরত ইয়াহিয়ার জীবন ও মৃতু্যর মধ্যে কি মিল রয়েছে ? পার্থক্যই বা কি রয়েছে ?
    ১০. বর্তমান সময়ে এবং ব্যক্তিগতভাবে এই অংশের মূল বিষয় কি বলে আপনার মনে হয় ?


    © 2005 Glad Tidings Mission

    ৯. ২৫০০০ রুটি এবং ১০০০০ মাছ (মার্ক ৬ঃ৩০-৪৪)


    পটভূমি ঃ দলীয় কিতাব পরিচালনাকারী অবশ্যই মানচিত্র থেকে দেখানো উচিৎ যে কোথায় এই কেরামতী কাজটি সংঘটিত হয়েছিল : এটি ছিল বৈৎসদা হৃদের কাছেই (৪৫)। দলীয় নেতার অবশ্যই বের করা উচিৎ যে গালীলের মূল শহর থেকে এটি কত দূরে। মনে রাখুন যে, ঈসা এবং তাঁর সাহাবীদের সেই স্থানে যাবার উদ্দেশ্য ছিল বিশ্রাম নেয়া (৩১-৩২)।

    ১. একজন মানুষ খুব ব্যস্ত এবং সেকারণে তিনি খাওয়ার সময় পাচ্ছেন না এটি সাধারণতঃ একজন ব্যক্তিকে কিভাবে প্রভাবিত করতে পারে (৩১)?
  • সাহাবীরা যখন দেখলো যে লোকেরা হৃদের তীরে তাদের জন্য ইতোমধ্যে অপেক্ষা করছে তখন তারা কেমন অনুভব করেছিল বলে আপনার মনে হয় ?
  • দিনটি শেষ হয়ে গেলেও কেন ঈসা মশীহ লোকদের উপর রাগান্বিত হলেন না (৩৪)?
    ২. ঈসা মশীহ যখন তারা শিক্ষা শেষ করলেন তখন প্রায় বিকাল হয়ে এসেছিল। আপনার কি মনে হয়, সাহাবীরা সেইদিন সেইসময়ে কি অনুভব করছিলেন ?
  • হিসাব করুন যে বিশ্রামের জন্য অবস্থানরত স্থান থেকে মূল শহর গালীলে পায়ে হেঁটে যেতে কতটা দূরত্ব অতিক্রম করতে হবে ? মনে রাখুন যে সেই জনভিড়ে অনেক বৃদ্ধ এবং শিশুরাও ছিল।
    ৩. পাঁচটি রুটি ও দুটি মাছ দিয়ে একজনের খাবার হয়। আমাদের টাকায় এরকম দুপুরের খাবারের দাম কত হতে পারে ?
  • আপনি কি মনে করেন ২৫০০০ রুটি ও ১০০০০ মাছ খুঁজে পাবার জন্য সাহাবীদের কতটি গ্রাম ঘুরতে হতো (৩৬)?
    ৪. বর্তমান সময়ে এরকম ৫০০০ লোকেরা খাবারের দাম কত হবে ?
  • ২০০ দিনার ছিল সেই সময়ে একজন মানুষের বাৎসরিক আয়ের দুই তৃতীয়াংশ। কেন সাহাবীরা ঠিক এই অংকের কথা উল্লেখ করলেন (৩৭) ?
    ৫. ঈসা মশীহ কেন তারা সাহাবীদের বললেন ' তোমরাই ওদের খেতে দাও' (৩৭) ?
  • সাহাবীরা ঈসার এই অনুরোধে কি উত্তর দিয়েছিল ?
    ৬. ঈসা মশীহের আদেশ অনুসারে কাজ করার সাহস সাহাবীরা কোথা থেকে পেলেন (৩৯)?
  • আপনি কি মনে করেন লোকেরা যখন ঘাসের উপর বসেছিল তারা কি এটি বিশ্বাস করেছিল যে তাদেরকে যে কোন ভাবেই হোক খাওয়ানো হবে ? যদি তারা বিশ্বাস করেই থাকে, তাহলে তারা কি ভেবেছিল যে খাবার কোথা থেকে আসবে ?
    ৭. কেন ঈসা রুটিকে ৫০০০ গুন বৃদ্ধি করেছিলেন, বা বলা যায় যে, পাথরকে রুটিতে পরিণত করেছিলেন (৪১-৪২) ?
  • ঈসা মশীগ যে কেরামতী কাজ করেছেন এবং জাদুকর যে আশ্চর্যকাজ করে তার মধ্যে পার্থক্য কি ?
    ৮. বিভিন্ন কারণগুলো খুঁজে বের করুন যে কেন বর্তমান সময়ে ঈসায়ীরা বর্তমান বিশ্বের ক্ষুধার্ত মানুষদেরকে খাবার দিতে খুব আগ্রহী নয় ? (বর্তমান সময়ে ঈসায়ীরা কিসে বেশী ব্যতিব্যস্ত?)
  • সেই ক্ষুধার্তরা কোথায় যেখানে ঈসা মশীহ আপনাকে আজ খাবার দিতে বলেন ?
    ৯. আপনি কি বিশ্বাস করেন যে আপনার দেয়া একটি(ছোট) উপহারকে তিনি ৫০০০ ভাগ করতে পারেন ?
  • ঈমান এবং বাস্তবতার সাথে পার্থক্য কি ?

    সুখবর ঃ এই কেরামতী কাজটি করার পরে ঈসা মশীহ বললেন ' আমিই সেই জীবন্ত রুটি যা বেহেস্ত থেকে নেমে এসেছে। এই রুটি যে খাবে সে চিরকালের জন্য জীবন পাবে। আমার দেহই সেই রুটি। মানুষ যেন জীবন পায় সেই জন্য আমি আমার এই দেহ দেব (ইউহোন্না ৬ঃ৫১)।' ক্রুশীয় মৃত্যুবরণের মধ্য দিয়ে ঈসা মশীহ পবিত্র মেজবানীর সেই রুটিতে পরিণত হয়েছেন, আমাদের জন্য আখেরী জীবনের রুটি।


    © 2005 Glad Tidings Mission

    ১০. এপ্ফাথা : খুলে যাক্ (৭ঃ৩১-৩৭)


    পটভূমি ঃ পাঠ্যঅংশের এই লোকটি ছোটবেলা থেকেই কালা ও তোতলা ছিল, কারণ সে কথা বলতে শেখেনি। একারণে সে অন্য ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে অসমর্থ ছিল(সেই সময়ে সেখানে আকার ঈঙ্গিতে বলার কোন ভাষাও প্রচলিত ছিল না)। ইশাইয়া নবী ৭০০ বছর আগে ভাববাণী করেছিলেন যে (ইশাইয়া ৩৫ঃ৫) মশীহ কালাদের শুনতে ও তোতলাদের কথা বলতে সাহায্য করবেন (৩৭)।

    ১. প্রতিদিন আপনি যে বিভিন্ন ধরনের শব্দ ও কথা শুনতে পান সে সম্বন্ধে চিন্তা করুন। যদি আপনি কোন কিছু শুনতে অক্ষম হতেন তাহলে আপনার জন্য সবচেয়ে কঠিন বিষয় কি হতো ?
    ২. এই লোকটির ছোটবেলার কথা চিন্তা করুন। (আপনার কি মনে হয় তার বাবা মা কি তাকে বিপদ থেকে রক্ষা করা, তার কাজ করা ইত্যাদি সম্বন্ধে কোন শিক্ষা দিতে সমর্থ হয়েছিল ? তার সঙ্গীদের সাথে তার কি ধরণের সম্পর্ক ছিল ? আপনি কি মনে করেন সে নিজেকে নিয়ে কি কল্পনা করতো ?)
    ৩. একজন সমবয়সী শ্রবণ প্রতিবন্ধি ও পূর্ণবয়স্ক সঙ্গীর প্রতিদিনের জীবনযাপন তুলনা করুন।
  • সম্ভবত এই লোক কয়েকবার মজলিশ ও এবাদতখানায় গিয়েছে। অদৃশ্য আল্লাহ সম্বন্ধে কতটুকু সে বুঝত বলে আপনি মনে করেন ?
    ৪. যারা ঈসা মশীহের কাছে এই লোকটিকে নিয়ে এসেছিল তাদের উদ্দেশ্য কি ছিল? বিভিন্ন কারণগুলি চিন্তা করুন (৩২)।
  • যদি আপনি একজন কালা ও তোতলা লোককে ঈসা মশীহের কাছে নিয়ে যাবার জন্য সাহায্য করে থাকেন, তাহলে আপনি কিভাবে তাকে বুঝিয়েছেন যে কোথায় তাকে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং কেন ?
  • জনসমাগমের মধ্যে থাকা এই লোকটির জন্য বেশী কঠিন ছিল কেন ?
    ৫. এই লোকেরা বন্ধুরা যেভাবে চেয়েছিল ঈসা মশীহ কেন সেইভাবে তাকে সুস্থ করেননি(৩২,৩৪) ?
  • কেন এই লোকটি প্রতিবাদ না করে একজন অচেনা রাবি্ব (গুরু)র সাথে আলাদা জায়গায় গিয়েছিলেন (৩৩) ?
    ৬. ৩৩-৩৪ আয়াতের আলোকে আপনার কি মনে হয় ঈসা মশীহের নিজের চারটি প্রতীকি ভাষার কতটুকু এই লোক বুঝতে পেরেছিলেন ?( লোকটিকে সুস্থ করার পূর্বে বেহেস্তের দিকে তাকানোর মধ্য দিয়ে ঈসা মশীহ লোকটির কাছে কি প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন ? তাঁর দীর্ঘ নিঃশ্বাসের মধ্য দিয়ে তিনি কি বুঝাতে চেয়েছিলেন ?)
    ৭. হজরত মার্ক কেন তার অরামিক ভাষায় লেখা আসল সুসখরে সুস্থ করার ভাষাগুলি উল্লেখ করেছেন (৩৪)?
  • ঈসা মশীহ এখন আপনার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এবং ঐ লোকটিকে যা বলেছেন তা আপনাকে বলছেন : 'এপ্ফাথা'! খুলে যাক!' এই কথার মধ্য দিয়ে তিনি আপনার কাছে কি অর্থ বহন করছেন- অন্যান্য লোকদের সাথে আপনার যোগাযোগের বিষয়ে চিন্তা করুন। (হৃদয় থেকে উত্তর দিন)
    ৮. একটি ভাষার মূল শব্দগুলি শিখতে একটি শিশুর সাধারণতঃ তিন বছর সময় লাগে। এটি কিভাবে সম্ভব যে লোকটি চোখের পলকেই তার সমস্ত তথ্য পেয়ে গেছেন ?
    ৯. ঈসা মশীহের প্রতিটি কেরামতী কাজই আমাদেরকে বেহেস্ত সম্বন্ধে কিছু বলে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আমরা কি শিক্ষা পেতে পারি ?
    ১০. কেন লোকেরা ঈসা মশীহের সেই কেরামতী কাজ সম্বন্ধে কথা বলাবলি করছিল যদি ঈসা মশীহ তাদেরকে তা বলতে নিষেধ করেছিলেন (৩৬)?
  • আপনার কি মনে হয় : বর্তমান সময়ে মিডিয়াতে কেরামতী কাজের বিজ্ঞাপন কি আমাদের ঈসায়ী জামাতগুলোর জন্য লাভজনক ?
  • বন্ধুদের কাছে কি ধরণের খবর বলা ঈসা মশীহ সমর্থন করেন ?

    সুখবর : ঈসা মশীহ ও তাঁর পিতার গভীর সম্পর্ক ভেঙ্গে গিয়েছিল যখন ঈসা মশীহের ক্রুশে টাঙ্গানো হয়েছিল। ঈসা মশীহ এই মূল্য দিয়েছিলেন যাতে করে আমরা গোনাহ্গারেরা মাবুদ আল্লাহর সাথে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে পারি।


    © 2005 Glad Tidings Mission

    ১১. একজন অন্ধ মানুষ যার নিজস্ব ইচ্ছা নেই ৮ঃ ২২-২৬


    পটভূমি ঃ এই লোকটি আগে দেখতে পেত। আমরা এটি জানি কারণ সুখবর আমাদের বলে যে ঈসা মশীহ শুধুমাত্র একজন ব্যক্তিকেই সুস্থ করেছেন যে জন্মান্ধ ছিল(ইউহোন্না ৯ঃ৩২)।এই পাঠ্যাংশ আমাদের বলে যে শুধুমাত্র এই একটি সময়েই ঈসা মশীহ কাউকে কয়েকটি ধাপে সুস্থ করেছিলেন। এই ঘটনার কিছু আগেই ঈসা মশীহ তাঁর সাহাবীদের কাছে রুহানিক অন্ধত্বের বিষয়ে আলোচনা করেছেন (১৮)। এছাড়া তিনি সেখানে একবার বৈৎসদার অবিশ্বাস নিয়ে অভিযোগ করেছেন, যেখানে তিনি এই কেরামতী কাজ করেছিলেন।

    ১. অন্ধ লোকটি কেন ঈসা মশীহকে কিছু জিজ্ঞাসা করেনি ?
  • কল্পনা করুন যে সুস্থ হবার আগ পর্যন্ত অন্ধ লোকটির জীবন যাপন কেমন ছিল ?
  • কি বিষয় এই লোকটিকে নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিল? বিভিন্ন কারণ চিন্তা করুন।
    ২. অন্ধ লোকটির বন্ধুরা ঈসা মশীহের কাছে অন্ধ লোকটির জন্য কি প্রত্যাশা করেছিল? (২২)
  • ঈসা মশীহ সেই অন্ধ লোকটির বন্ধুদের অনুরোধের কি উত্তর দিয়েছিলেন?
  • আপনি কি অন্ধ লোকটির মত অথবা তার বন্ধুদের মত যারা তাকে ঈসা মশীহের কাছে এনেছিল ?
    ৩. কেন ঈসা মশীহ লোকটিকে বৈৎসদায় সুস্থ না করে গ্রামের বাইরে নিয়ে সুস্থ করতে চাইলেন?
  • মনে করুন একজন অপরিচিত ব্যক্তি যাকে আপনি চেনেন না সে আপনার হাত ধরেছে। আপনার প্রতিক্রিয়া তখন কি হবে ? (ঈসা ঐ লোকটির হাত ধরে যখন গ্রামের বাইরে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তিনি কোন বাধা দেননি, এই ঘটনা ঐ লোকটির সম্বন্ধে কি প্রকাশ করে?)
    ৪. ঈসা মশীহ অন্ধ লোকটির প্রতি ৪টি কি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন ?
  • কেন ঈসা অন্ধ লোকটিকে সুস্থ করার জন্য অনেক গুলি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন ?( ঈসা মশীহের এই ধারাবাহিক ভাবে সুস্থ করা এবং তার সাথে ঈসা মশীহের কথা বলার সুযোগ লোকটির কাছে কি অর্থ বহন করে ?)
    ৫. ঈসা মশীহ লোকটিকে জনসমাগম থেকে মুক্ত করার জন্য গ্রামের বাইরে নিয়ে গিয়েছিলেন। আপনি কি মনে করেন তখনও লোকেরা তাদের চারিদিকে ঘিরে ছিল কিম্বা লোকটি যখন দেখতে পেল তখন সে ভুল দেখেছিল ? (২৪)
  • ধরুন ঈসা তার দুহাতই তার মাথার উপর তুলে ধরে রেখেছিলেন এবং জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে সে কিছু দেখতে পাচ্ছে কিনা। তার এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর কি হতে পারে ?
  • দ্বীতিয় ধাপে সুস্থতার সময় ঈসা কেন এই একই প্রশ্নের পুনরুক্তি করেননি ? (২৫)
    ৬. লোকটির বন্ধুরা সম্ভবতঃ তখনও বৈৎসদায় অপেক্ষা করছিলেন। কেন ঈসা চাননি লোকটি সুস্থ হবার পর সেই স্থানে আবার ফিরে যাক ? ( কি ঘটনা ঘটতো যদি সে আবার গ্রামে ফিরে যেত?)
  • চোখ ছাড়াও, এই লোকটির জীবনের আর কোন দিক সুস্থ লাভ করেছিল ?
  • সেই লোকটির জন্য ঈসার মূল লক্ষ্য কি ছিল ?
    ৭. এই অংশ অবশ্য আমাদেরকে এই কথা বলে যে আমাদের হৃদয়চক্ষু দিয়ে আমরা ঈসাকে দেখতে পারি (১৮)। ঈসা মশীহ আপনার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এবং জিজ্ঞাসা করছেন ' তুমি কি কিছু দেখতে পাচ্ছ?' আপনার উত্তর কি ?
  • ঈসা মশীহ কিভাবে আপনার হৃদয়চক্ষু খুলে দিতে পারেন, যাতে আপনি তাঁকে দেখতে পারেন?
    ৮. এই কেরামতী কাজটি বেহেস্ত সমর্্পকে আমাদেরকে কি শিক্ষা দেয় ?
    সুখবর ঃ অন্ধের এই চোখ খুলে দেয়া হল এমন একটি চিহ্ন যা আমাদের বলে যে মাবুদ আল্লাহ নিজেই আমাদের মধ্যে আসতে পারেন এবং লোকেরা সরাসরি তার মুখের দিকে তাকাতে পারে ( ইশাইয়া ৩৫ঃ৪-৫)। ঈসা মশীহ লোকদের কাছ থেকে নিজেকে লুকায়িত রেখেছিলেন যে কারণে বেশীরভাগ লোক তাকে প্রভু হিসাবে চিনতে পারেনি। ঈসা প্রকৃতপক্ষে কে ছিলেন তা বোঝা এমনকি তাঁর সাহাবীদের জন্যও খুব সহজ ছিল না। এই ঘটনা আমাদেরকে দেখায় যে তিনি কে তা আমরা প্রকৃতপক্ষে না বোঝা পর্যন্ত ঈসা কখনও হাল ছাড়েননি (১ ইউহোন্না ৩ঃ২)।

    © 2005 Glad Tidings Mission

    ১২. নিজের জীবন রক্ষা করা এবং তা হারানো (৮ঃ৩৪-৩৮)


    পটভূমি ঃ ঈসা মশীহ এখানে প্রথমবারের মত 'ক্রুশ' এর কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথা অবশ্যই তাঁর সাহাবীদেরকে নাড়া দিয়েছিল, কারণ ক্রুশে টাঙ্গানো সেই সময়ে অত্যন্ত লজ্জাকর এবং কষ্টদায়ক ছিল যা একজনের কল্পনার বাইরে। সেই সময় যাদেরকে ক্রুশে দেয়া হতো তারা তাদের দোষের জন্য অসম্মানজনক ক্রুশটি যখন তারা নিজেরাই বহন করতো তখন অন্যেরা উপহাস করতো। ( মনে রাখুন যে আসল গ্রীক ভাষায় 'জীবন' এবং 'রুহ্' একই অর্থ বহন করে।)

    ১. আয়াত ৩৪-৩৮
  • বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনের গুরুত্ব /মূল্য কিভাবে বিবেচনা করা হয় ? (অন্য কথায়, একজনের জীবন রক্ষা করা এবং সাময়িক কথার পরিপ্রেক্ষিতে তা হারিয়ে ফেলা, এর অর্থ কি ?
  • কাকে ঈসা মশীহ এই কথাগুলি বলেছেন ?
  • এই কথাগুলো শোনার পূর্বে লোকেরা ঈসা মশীহের উম্মত হবার ক্ষেত্রে কি চিন্তা করতে পারে? শোনার পরেই বা কি চিন্তা করতে পারে ?
  • কোন ধরণের লোকেরা এই কথাগুলো শোনার পরও ঈসা মশীহকে অনুসরণ করার জন্য আগ্রহী হয় ?
  • ঈসা মশীহ যদি তাঁর আরো উম্মত বৃদ্ধি করতে চান, তবে কেন এরকম তিনি এরকম কথা বলেছেন ?
    ২. আয়াত ৩৪ - নিজেকে অস্বীকার করা।
  • সাহাবীদের জীবনে নিজেকে অস্বীকার করার অর্থ কি ?
  • আপনার বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ঈসার উম্মত হওয়ার জন্য নিজেকে অস্বীকার করা- এর অর্থ কি ?
  • (বৌদ্ধদের ধারণা অনুসারে এই প্রশ্ন করুন : ঈসায়ী এবং বৌদ্ধদের মধ্যে তাহলে পার্থক্য কি যখন এই ধরণের ধারণাগুলি আসে যে ' নিজেকে অস্বীকার কর'।
    ৩. আয়াত ৩৪ - নিজের ক্রুশ বহন করা।
  • আপনার কি মনে হয়: ঈসা মশীহ কি 'ক্রুশ' বলতে এখানে যে কোন ধরনের কষ্টের কথা বলেছেন অথবা শুধুমাত্র সেই কষ্টের কথা বলেছেন যা ঈসায়ী ঈমানের কারণে আমাদের জীবনে আসে ?
  • আপনার জীবন কিভাবে ক্রুশ ছাড়া থাকতে পারে ?
  • কেন ঈসা মশীহ চাননি যে তার কোন উম্মত ক্রুশবিহীন অবস্থায় থাকুক
  • এটি কি ধরণের পার্থক্য তৈরী করে যদি একজন কষ্টভোগকারী তার ক্রুশ শয়তানের কাছ থেকে নয়, কিম্বা কোন মানুষের কাছ থেকে নয়,বা কোন অন্ধ বিশ্বাসের কাছ থেকে নয় কিন্তু ঈসা মশীহের কাছ থেকে গ্রহণ করে ?
    ৪. আয়াত ৩৫ - নিজের জীবন রক্ষা করা এবং হারানো।
  • বিভিন্ন কি উপায়ে লোকেরা তাদের ক্রুশ হতে নিজেকে মুক্ত করতে চায় ?
  • একজন ব্যক্তি যার মূল লক্ষ্য হল সুখে থাকা, কিন্তু কেন সে সুখী হতে পারে না ?
  • ঈসা মশীহের উম্মতেরা কোথা থেকে তাদের ক্রুশ বহন করার শক্তি পায় ?
    ৫. আয়াত ৩৬-৩৭ - নিজের জীবন হারানো, নিজের জীবন রক্ষা করা।
  • একজন মানুষ তার জীবনের জন্য কি ধরণের জিনিষ হারায় ?
  • ঈসা মশীহ মানুষের রুহের বিনিময়ে কি মূল্য দান করেছেন ?
    ৬. আয়াত ৩৮ - ঈসা মশীহ ও তাঁর কথা নিয়ে লজ্জাবোধ করা।
  • অঈমানদার ভাইবোনেরা শুনতে পাচ্ছে এ রকম অবস্থায় থাকলে পাক কিতাবের কোন কথাটি আপনার জন্য জোরে বলা কঠিন হয় ?
  • কেন ঈসা মশীহ নিজে সেই সমস্ত ঈসায়ীদের নিয়ে লজ্জিত হবেন যাদের এই কালের অবিশ্বস্ত ও গোনাহ্পূর্ণ লোকদের মধ্যে তাঁর কালাম নিয়ে যুদ্ধ করার সাহস নেই ?
  • ঈসা মশীহ যদি একজন ব্যক্তির প্রতি লজ্জিত হন তাহলে তার কি হবে ?
    ৭. সুখবর - প্রশ্নাবলী
  • একজন ক্রুশ বহনকারী ঈসায়ীর কাছে এটি কি অর্থ বহন করে যে ঈসা মশীহ তাঁর নিজের ক্রুশ বহন করে এই একই পথে আগেই হেঁটেছেন ?
  • ঈসা মশীহ নিজের ক্রুশ বহন করার পরপরই তাঁর জীবন/রুহ্ হারিয়েছিলেন, কেন?


    © 2005 Glad Tidings Mission

    ১৩. একজন আধা ঈমানদার ( ৯ঃ ১৪-২৯)


    পটভূমি ঃ একজন ব্যক্তি যার সাথে মন্দ বা খারাপ রুহ্ আছে তাকে ভূতগ্রস্ত বলা হয়। কিছু কিছু মানসিক রোগ যেমন মৃগী রোগ থেকে এটি ভিন্ন ধরণের। একটি মন্দ রুহ্ কখনই একজন ঈসায়ী ঈমানদার যে তরিকাবন্দী নিয়েছে তার মধ্যে বাস করতে পারে না।কারণ ইতোমধ্যেই পাক রুহ্ তার হৃদয়ে বাস করতে শুরু করেছেন। লুক সিপারা অনুসারে, এই পাঠ্যাংশের ছেলেটি বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান ছিল (লূক ৯ঃ ৩৮)।
    ১. যে পিতার সন্তান ভূতগ্রস্ত হয়েছিল তার প্রতিদিনের জীবন সম্বন্ধে চিন্তা করুন (১৭-১৮, ২০-২২)। ( পিতামাতা, প্রতিবেশী ও আল্লাহ সাথে তাদের সম্পর্কেব বিষয় বিবেচনা করুন ; এছাড়া ভবিষ্যত নিয়ে ভাবনা, ছেলেটির চিকিৎসার উদ্যোগ ইত্যাদি নিয়েও চিন্তা করুন।)
  • ছেলেটির বন্ধুবান্ধবদের সাথে তার জীবনের তুলনা করুন।
    ২. ১৪-১৮ আয়াতে উল্লেখিত অবস্থার সময়ে তার পিতার জন্য কি বিষয় সম্ভবত কঠিন ছিল ?
    ৩. অবিশ্বাসী লোকদের সামনে যখন তিনি কথা বলছিলেন তখন তিনি কাদের কথা উল্লেখ করেছেন যাদেরকে ধৈর্য ধরে সহ্য করা কঠিন ছিল ?
  • বিশেষতঃ এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কেন লোকদের অবিশ্বাস এর সামনে ঈসা মশীহের দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন ছিল ?
    ৪. কেন ছেলেটির বাবা এই ঘটনার সাথে সমর্্পক্ত হয়ে নিজেই সাহায্যের জন্য কাঁদছিলেন : ' আমাদের প্রতি দয়া করুন এবং সাহায্য করুন।'
    ৫. ২৩ আয়াতে ঈসা মশীহ ছেলেটির বাবার কাছ থেকে অটল ঈমান আশা করছিলেন ? কেন তা করছিলেন ?
  • যখন আপনি দূর্দশাগ্রস্ত, তখন যদি কেউ একজন আপনার কাছ থেকে প্রকৃত ঈমান আশা করে তখন আপনার কেমন অনুভব হবে ?
    ৬. ২৪ আয়াত এর কথাগুলো যখন চিৎকার করে ছেলেটির বাবা বলছিলেন তখন তিনি কি বিশ্বাস করেছিলেন এবং কি অবিশ্বাস করেছিলেন ?
  • আপনার কোন একজন প্রিয়পাত্রের সমস্যার জন্য যখন আপনি ঈসা মশীহের কাছে মোনাজাত করেন তখন আপনি কি বিশ্বাস করেন এবং কি অবিশ্বাস করেন ?
    ৭. এই সাহায্যে জন্য আকুতি কি এটি প্রমাণ করে যে এই পিতার ইতোমধ্যে নাজাতের ঈমান ছিল অথবা না ?আপনার কারণগুলি বলুন।
  • আপনার কি মনে হয় কখন এই পিতা ঈসা মশীহের উপর ঈমান আনলেন ? বিভিন্ন সম্ভাব্যতা আলোচনা করুন।
    ৮. যদিওবা এই পিতা বা সন্তানের কারোরই অটল বিশ্বাস ছিল না, তবুও কেন ঈসা এই পরিবারটিকে সাহায্য করলেন ?
  • কার ঈমানের কারণে এই কেরামতী কাজ ঘটেছিল ?
  • ঈসা মশীহ যেন আমাদের কোন প্রিয়জনের কষ্টের সময়ে সাহায্য করতে পারেন তার জন্য আপনার কতখানি ঈমান রাখা প্রয়োজন ?
    ৯. ছেলেটি যখন মাটিতে মরার মত পড়েছিল তখন তার বাবা সম্ভবত ভেবেছিল যে তার ছেলে মারা গেছে (২৬)। ঈসা মশীহ সাহায্য করার পূর্বে কেন ছেলেটি তীব্র যন্ত্রণার অভিজ্ঞতা লাভ করেছিল ? ( ঈসা মশীহের কাছে সাহায্য চাইবার সাথে সাথে যদি তা পেয়ে যেতেন তাহলে তার বাবা কি শিখতে ব্যর্থ হতেন ?)
  • কেন ঈসা মশীহ কোন কোন সময় তাঁর মধ্যস্থতার পূর্বে আমাদের নিরাশাগ্রস্ত পরিস্থিতির শেষ দেখতে চান ? (যদি তিনি তাৎক্ষণিক আপনাকে সাহায্য করেন, তাহলে আপনি কি শিখতে ব্যর্থ হবেন ?)
    ১০. 'ঈসা কিন্তু তার হাত ধরে তুললে পর সে উঠে দাঁড়ালো'- আপনি যে লোকটির সম্বন্ধে চিন্তিত তার নাম এই বাক্যের মধ্যে বসান। আপনি যখন এইভাবে তা পড়েন তখন ২৭ আয়াত আপনার কাছে কি বলে ?
    সুখবর ঃ যখন মন্দ মানুষ এভং মন্দ রুহেরা ঈসা মশীহকে নির্যাতিত করেছিল, তখনও তিনি তাঁর বেহেশ্তী পিতার শক্তি ও মহব্বতের উপর ঈমান ধরে রেখেছিলেন। তার এই প্রকৃত ঈমানের জন্য আমাদের সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও মাবুদ আল্লাহ কাছ থেকে আমরা আমাদের ও প্রিয়জনদের জন্য সাহায্য পেতে পারি।

    © 2005 Glad Tidings Mission

    ১৪. বিপথগামীর পরিণতি (৯ঃ ৪২-৫০)


    পটভূমি ঃ গ্রীক শব্দ 'স্কেন্দালাইজো' এর অর্থ হচ্ছে ' কাউকে কষ্ট দেয়া, প্রলোভিত করা, কাউকে ফেলে দেয়া, কাউকে গোনাহের পথে নিয়ে যাওয়া যা ৪২ আয়াতে উল্লেখ আছে। এই অংশে উল্লেখিত ঈসা মশীহের কথা বর্তমান সময়ের জন্যও খুব দরকারী। মাঝে মাঝে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম আমাদেরকে শিশুদের যৌন নিপিড়ন সম্বন্ধে বলে যা বর্তমান সময়ে অসংখ্য শিশুদের জীবন ধ্বংস করছে। ঈসা মশীহ, এখানে শুধুমাত্র ঐ ধরণের কষ্টদায়ক ঘটনার কথাই আমাদেরকে বলেননি কিন্তু আপনার ও আমার মত সাধারণ মানুষদের জীবনের গুপ্ত প্রলোভনের বিষয়েও বলেছেন।

    ১. ৪২ আয়াতে যে শাস্তির কথা বলা আছে তা দুনিয়ার কোন দেশের আইনি শাস্তিতে উল্লেখ নেই। কোন দৃষ্টিকোণে ঈসা মশীহ অন্যান্য সাধারণ শাস্তির থেকে এই শাস্তিকে আরো বেশী জোরালো দাবী করেছেন ? ( ঈসা মশীহের কথা অনুসারে যদি কোন শিশুকে কেউ গুনাহের পথে নিয়ে যায় তবে তার স্বাভাবিক মৃতু্য গ্রহণযোগ্য নয় কেন ?)
    ২. কিছু উদাহরণ দিন যে কিভাবে হাত কাউকে গুনাহের দিকে টানে (৪৩) ?
  • কিভাবে পা কাউকে গুনাহের দিকে টানে (৪৭)?
  • যখন আপনি কোন প্রলোভনের সামনে পড়েন তখনই কি আপনি বুঝতে পারেন যে তা প্রলোভন ?
    ৩. কোনটিকে আপনি বেশী ভয় পান : যে কোন দূর্ঘটনার মধ্য দিয়ে আপনার হাত, পা, চোখ হারানো, অথবা মৃতু্যর পরে আপনি দোজখের আগুনে পোড়া ?
  • আপনার সন্তান/ প্রিয়জন কারো জীবনে এই সম্ভাবনাগুলির মধ্যে কোনটি নিয়ে আপনি বেশী ভয় পান?
    ৪. এখানে ঈসা মশীহ যেভাবে তাব্লীগ শুরু করেছেন সেভাবে যদি কেউ এখন জামাতে তাব্লীগ শুরু করে তাহলে জামাতের শ্রোতারা কি বলবে ?
    ৫. ঈসা মশীহ এ ধরণের কঠিন হেদায়েতের মধ্য দিয়ে কি বোঝাতে চেয়েছেন (৪৩-৪৭) ?
  • যদি আপনার কোন প্রিয়জন কোন খারাপ মানুষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে তাহলে আপনি ঈসা মশীহের এই হেদায়েত সম্পর্কে কি ভাববেন ?
    ৬. একজন ব্যক্তি যে যৌন সম্পর্কিত গোনাহের সাথে যুদ্ধ করছে এবং সেই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না, তাকে আপনি কি পরামর্শ/হেদায়েত দেবেন ?
    ৭. ঈসা যেভাবে তাব্লীগ করেছেন সেভাবে ঈসায়ী জামাতগুলো যদি প্রলোভন, গোনাহের বৃদ্ধি এবং দোজখ সম্বন্ধে তাব্লীগ করা বন্ধ করে দেয় তাহলে কি হবে ? (কিভাবে আল্লাহ সম্বন্ধে আমাদের ধারণার পরিবর্তন হতে পারে? কিভাবে মানুষের স্বভাব পরিবর্তন হতে পারে ? ঈসা মশীহের ক্রুশ তাদের সম্পর্কের মধ্যে কি প্রভাব ফেলতে পারে ?)
    ৮. আমাদের বর্তমান সময়ে বিভিন্ন নোংরা ছবি যারা তৈরী করেন এবং যারা কিনে নেন তাদের সবচেয়ে বড় ভুল কি ?
  • আমাদের কিভাবে এইসব মন্দ ছবির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বা সম্মিলিতভাবে যুদ্ধ করা উচিৎ?
    ৯. যদি আমরা এটা বুঝতে পারি যে ঈসা মশীহের দেয়া এই নির্দেশগুলি আমরা পালন করতে পারছি না তাহলে আমাদের কি করা উচিৎ?

    সুখবর : সম্ভবত এখন আপনি বুঝতে পারছেন যে কেন ঈসা মশীহের হাত ও পাগুলি পেরেক দিয়ে মারা হয়েছিল এবং সেইসাথে ভিতরের ও বাইরের অন্ধকারের জন্য তাঁকে মরতে হয়েছিল।


    © 2005 Glad Tidings Mission

    ১৫. ঈসা মশীহ এবং ছেলেমেয়েরা (১০ঃ১৩-১৬)


    পটভূমি ঃ ঈসা মশীহের সময়ে, যখন কোন ছেলে সন্তানের বয়স মাত্র ৮ দিন হতো, সে তখন আল্লাহর রাজ্যের সদস্য বলে বিবেচিত হতো। যদিও সমাজে শিশুদের সাধারণ অবস্থা নীচুতে ছিল। গ্রীক শব্দ 'পাইস' যা এই পাঠ্যাংশে 'ছেলেমেয়ে' হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তার অর্থ যে কোন বয়সের ছেলেমেয়ে, এমনকি নবজাতকও।

    ১. যখন আপনি আপনার কিম্বা অন্যের সন্তানের দিকে তাকান যাদেরকে আপনি চেনেন, এটি কি বিশ্বাস করতে কঠিন হয় যে আল্লাহর রাজ্য এদের মত লোকদেরই ? কেন অথবা কেন নয়- আপনার কারণগুলো ব্যাখ্যা করুন।
    ২. চিন্তা করুনতো যে কেন এই মায়েরা তাদের ছেলেমেয়েদের এমনকি নবজাতকদেরকেও ঈসা মশীহের কাছে আনতে চেয়েছিল - যারা ঈসা মশীহ কি বলছেন তা বুঝতে সক্ষম ছিল না ?
  • আপনি আপনার সন্তানকে ঈসা মশীহের কাছে নিয়েছিলেন, কেন নিয়েছিলেন ?
  • কেন সেই সময়ে, এমনকি এখনও বেশীরভাগ মায়েরা তাদের সন্তানকে ঈসা মশীহের কাছে আনেন না ?
    ৩. যখন ছেলেমেয়েদেরকে ঈসা মশীহের কাছে আনা হয়েছিল তখন কেন সাহাবীরা অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন ?
  • এই একটি মাত্র সময়ের কথা সুখবরে বলা আছে যেসময়ে ঈসা মশীহ 'অসন্তুষ্ট' হয়েছিলেন। কি ধরণের পরিস্থিতি তার এই অনুভূতি তৈরী করেছিল ?
    ৪. বর্তমান সময়ে, ছেলেমেয়েদেরকে ঈসা মশীহের কাছে আনার অর্থ হল তাদেরকে পাক কিতাবের কাছে আনা। ছেলেমেয়েরা তাদের বাড়ী এবং সান্ডেস্কুল, এবং জামাতের আয়োজনে কোন অনুষ্ঠান, ইত্যাদি থেকে পাক কিতাবের কথা শুনছে কিনা সে সম্বন্ধে ঈসায়ী অভিভাবকেরা মাঝে মধ্যে নিশ্চিত নন কেন ?
  • কিছু শক্তিশালী পদক্ষেপের কথা চিন্তা করুন যে কিভাবে আপনি আপনার সন্তান, নাতি নাতনী, কিম্বা অন্যান্য ছেলেমেয়েরা যারা আপনার আশেপাশে রয়েছে তাদেরকে ঈসা মশীহের কথা শোনার জন্য নিয়ে আসতে পারেন ?
    ৫. কেন একটি শিশু একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের তুলনায় সহজেই আল্লাহর রাজ্যে প্রবেশ করতে পারে ?
    ৬. একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের চেয়ে কিভাবে একজন শিশু বর্তমানকে সহজে গ্রহণ করতে পারে ?
  • কিভাবে একটি শিশু এই মহান সত্যকে গ্রহণ করে: ঈসা মশীহের বন্ধুত্ব এবং গোনাহের ক্ষমা ? একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষই বা কিভাবে করবে ?
    ৭. কল্পনা করুন যে বেহেস্ত শুধুমাত্র ছেলেমেয়েদেরই। দুনিয়ার এই রাজ্যের সাথে তার কিভাবে পার্থক্য করা যায় ? (যে ধরণের যত্ম নেয়া হয়, যা তাদের জন্য করা হয়েছে ইত্যাদি)
  • আমাদের এই পাঠ্যাংশ আল্লাহর রাজ্য সম্বন্ধে কি শিক্ষা দেয় ?
    ৮. ঈসা মশীহ অন্য একটি সময়ে এই কথা বলেছিলেন ঃ ' আমি তোমাদের বলছি, আলেম ও ফরীশীদের ধার্মিকতার চেয়ে তোমাদের যদি বেশী কিছু না থাকে তবে তোমরা কোনমতেই বেহেশ্তী রাজ্যে ঢুকতে পারবে না' মথি (৫ ঃ ২০)। এখানে তিনি ওয়াদা করেছেন যে এমনকি ছেলেমেয়েরাও সেখানে প্রবেশ করতে পারে। এই মতপার্থক্যকে আপনি কিভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন ?
    ৯. সেইদিন সকালে ঈসা মশীহ যে সমস্ত ছেলেমেয়েদেরকে দোয়া করেছিলেন তারা এখন কয়েক দশক পার হয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক হয়েছে। সম্ভবতঃ তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভাল, আবার কেউ কেউ তত ভাল মানুষ হয়নি। কেউ কেউ সুখী, কেউ কেউ অসুখী। আপনি কি মনে করেন যে দোয়া তারা ঈসা মশীহের কাছ থেকে পেয়েছিল, তা আজও তাদের কাছে অর্থবহ স্থায়ী হয়ে আছে ? যদি হয়ে থাকে, তাহলে কেন এটি স্থায়ী ছিল ?
  • যে সমস্ত মায়েরা সেদিন উপস্থিত ছিল তাদের পরবতর্ী জীবনে, বিশেষ করে যখন তাদের সন্তানেরা জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল তখন এই দোয়া কি অর্থ বহন করেছিল ?
    সুখবর ঃ সম্ভবতঃ এই সমস্ত ছেলেমেয়েদের মায়েরা চিন্তা করেছিল. ' ঈসা কখনই আমার সন্তান যাকে তিনি দোয়া করেছেন তাকে ভুলে যাবেন না।' আপনিও আপনার সন্তানের ক্ষেত্রে একইভাবে একথা বিশ্বাস করতে পারেন।


    © 2005 Glad Tidings Mission

    ১৬. দুনিয়াতে সম্পদ (১০ঃ ১৭-২৭)


    পটভূমি ঃ মথি সুখবর অনুসারে এই লোকটি যুবক ছিল (১৯ঃ২২) এবং লূক সুখবর অনুসারে সমাজে তার একটি ভাল অবস্থান ছিল। এই যুব রাজনীতিবিদ সত্যিই তার জীবনে সফলতা অর্জন করেছিলেন। এটি মনে রাখুন যে, সেই সময়ে বনি ইস্রায়েলীয়দের মধ্যে কোন সম্মানিত ব্যক্তি কোন সময় কারো সামনে দৌড়াতো না বা হাঁটু গাড়তো না।

    ১. আপনি কি মনে করেন ১৭ আয়াতে যুবকটির যে অপ্রচলিত স্বভাবের কথা বলা হয়েছে তা একজন সফল রাজনীতিবিদের পক্ষে কিভাবে করা সম্ভব হয়েছিল ?
  • এই যুবক বিশ্বাস করতেন না যে ঈসা মশীহই প্রভু। তারপরও কেন সে তার প্রশ্নের উত্তর ঈসা মশীহের কাছ থেকে জানতে চেয়েছিলেন ? (১৭-১৮)
    ২. যদিও এই যুবকটি তার সমস্ত জীবনে আল্লাহর সমস্ত শরা শরীয়ত অনুসরণ করেছেন তবুও কেন তার আখেরী জীবনের নিশ্চয়তা ছিল না ?
  • কেন আমরাও সবসময় জানিনা যে আমাদের মৃতু্যর পরে কি হবে ?
    ৩. অনেক রাজনীতিবিদদের টাকা পয়সা ও নারীদের প্রতি অনেক প্রলোভন থাকে। আপনি কি মনে করেন এই লোকটি এসমস্ত প্রলোভনগুলির বিষয়ে পরিস্কার ছিল ? (১৯-২০)
  • মনে রাখুন যে ঈসার কথানুসারে, শুধুমাত্র কাজ দিয়েই নয়, কিন্তু চিন্তায় ও কথায় আল্লাহর শরিয়ত অনুসরণ করা উচিৎ। আপনার কি মনে হয় এই লোকটি তা করেছিল ?
  • আপনি কি সত্যিকারভাবেই ঈসাকে বলতে পারেন যে আপনি তার নির্দেশ পালন করছেন?
    ৪. আল্লাহর সাথে সমর্্পকে আবদ্ধ থাকার ক্ষেত্রে তখনও যুবকটির একটি বিষয়ের অভাব ছিল। আপনি কি বলতে পারেন তা কি ?
    ৫. কি ধরণের জিনিষ সাধারণত মানুষ সম্পদ হিসাবে জমা করে ?(২১)
  • এই যুবকের দুনিয়াতে দুটি সম্পদ ছিল, সেগুলি কি ?
  • কিভাবে আমরা বেহেশ্তে ধন সম্পদ জমা করতে পারি ?
  • দুনিয়ার ধনসম্পদ এবং বেহেশ্ত এর ধনসম্পদের সাথে তুলনা করুন। পার্থক্যগুলি কি কি ?
    ৬. এই যুবকের সম্ভবত পরিবার এবং বৃদ্ধ বাবা মা ছিল যাদেরকে তার যত্ম নিতে হত। যদি এই যুবক ২১ আয়াতে বলা ঈসা মশীহের বলা নির্দেশটা শুনতো তাহলে তাদের কি হতো ?
  • আপনি যদি এই যুবকের জায়গায় থাকতেন, তাহলে আপনার কি মনে হয় আপনি কি এই বিশ্বাস করতেন যে কোন না কোনভাবে ঈসা মশীহ আপনার স্ত্রী সন্তান ও পরিবারকে যত্ম নিতেন ?
  • যদি ঈসা মশীহ আপনাকে এই একটি শর্ত দিতেন যে সমস্ত স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি এবং সঞ্চিত সম্পদ ছেড়ে দিয়ে তার সাহাবী হতে হবে তাহলে আপনি কি করতেন?
    ৭. যদি ঈসা মশীহ কোন শর্ত ছাড়াই এই যুবকটিতে তার সাহাবী বানাতেন তাহলে কি ঘটনা ঘটতো ?
  • ২১ আয়াতে আমরা দেখতে পাই যে ঈসা এই যুবকটির দিকে তাকালেন এবং মহব্বতে পূর্ণ হলেন। তারপর তিনি কেন তাকে এই ধরনের শক্ত কথা বললেন যে কারণে সে চলে গেল ?
    ৮. যখন এই যুবকটি বুঝতে পারলো যে সে এই সম্পদ ত্যাগ করে আসতে পারবে না তখন তার সামনে বিকল্প কি পথ ছিল ?
  • যদি এই লোকটি ঈসা মশীহের কাছে স্বীকার করতো যে সে আল্লাহর চেয়ে টাকা পয়সা ভালবাসে এবং তার জন্য যদি সে ক্ষমা চাইতো তাহলে ঈসা মশীহ তাকে কি প্রতিক্রিয়া দেখাতেন বলে আপনার মনে হয় ?
    ৯. এই যুবককে দেয়া উত্তর এবং হজরত পিতরকে ঈসা মশীহ যে উত্তর দিয়েছিলেন (২৭) তার মধ্যে তুলনা করুন। কেন এই দুটি উত্তর একেবারেই ভিন্ন ?
  • এই প্রশ্নটি আলোচনা করুন : একজন মানুষ যে তার দুনিয়ার সম্পদের মধ্যে আটকে আছে তাকে কি নাজাত দেয়া আল্লাহর পক্ষে সম্ভব ?

    সুখবর ঃ ঈসা মশীহ তাঁর বেহেশ্তী সমস্ত সম্পদ ত্যাগ করেছিলেন যখন তিনি এই দুনিয়াতে এসেছিলেন। ক্রুশের উপর তাঁকে শাস্তি পেতে হয়েছিল যেন দুনিয়ার সম্পদ ও দুনিয়ার দেবতাদের সাথে তাকেও বেঁধে রাখা যায়। আপনি কি জানেন, কেন ? (১৭)


    © 2005 Glad Tidings Mission

    ১৭. কে প্রধানমন্ত্রী হবে ? (১০ঃ ৩২-৪৫)


    পটভূমি ঃ ইয়াকুব এবং ইউহোন্না সিবদিয়ের ছেলে ছিলেন, যিনি গালীলের একজন নামকরা জেলে ছিলেন। তারা হজরত পিতরের সাথে একসাথে সাহাবী হয়েছিলেন। ঈসা মশীহ একবার ইয়াকুব ও ইউহোন্নাকে ' বজ্রপাতের সন্তান' বলে ডেকেছিলেন। এখন ঈসা মশীহ যেরুজালেমের যাবার পথে রয়েছেন যেখানে তাকে কষ্ট পেতে ও মৃতু্যবরণ করতে হবে। এই ঘটনার আগে তিনি ইতোমধ্যে দুইবার তার আসন্ন মৃতু্যর সম্বন্ধে ভবিষ্যতবাণী বলেছেন।

    ১. কি উদ্দেশ্যে ঈসা মশীহ যেরুজালেমে যাচ্ছিলেন সে সম্বন্ধে ইয়াকুব ও ইউহোন্না কি ধারণা করেছিলেন ?
  • কেন এই দুইভাই ৩৩-৩৪ আয়াতে ঈসার বলা ভবিষ্যতবানীকে গুরুত্বের সাথে নেননি ?
    ২. ইয়াকুব এবং ইউহোন্না ইতোমধ্যে ঈসা মশীহের উপর ঈমান এনেছিলেন, কিন্তু তারা এটা বিশ্বাস করেননি যে মশীহকে কষ্ট পেতে ও মরতে হবে। যখন একজন ব্যক্তি ঈসা মশীহের মৃতু্যর কোন কারণ দেখতে পাননা , তখন তিনি ঈসা মশীহের কাছ থেকে এবং ঈসায়ী ঈমানের কাছ থেকে কি প্রত্যাশা করেন ?
    ৩. আপনার কি মনে হয় সিবদিয়ের এই সন্তানেরা ঈসা মশীহের রাজ্যে মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব পাবার পর কি করতে চাইতেন ?
  • আমাদের বর্তমান দুনিয়ায় ক্ষমতার জন্য আকাংখী থাকা একটি সাধারণ বিষয় কেন ?
  • আপনি আপনার পরিবার অথবা কাজের ক্ষেত্রের মানুষের উপর কিভাবে ক্ষমতা প্রভাব দেখিয়েছেন ?
    ৪. 'কাপ বা পেয়ালা' শব্দটি প্রায়ই কিতাবুল মোকাদ্দসে দুঃখের ভাষা হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে। যদি ঈসা মশীহ এই দুই ভাইকে তার ক্রুশের ডান দিকে এবং বাঁ দিকে থাকার জন্য অনুরোধ করতেন তাহলে তাদের উত্তর কি হতো ? (৩৮-৩৯)
  • আপনাকে যে বিশ্বস্ত দায়িত্ব ও ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তার অংশ হিসাবে আপনি কি কষ্টকে গ্রহণ করতে আগ্রহী ?
    ৫. ইয়াকুব ও ইউহোন্নার ক) ঈসা মশীহের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে খ)প্রতিবেশীদের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কি গোনাহ্ ছিল ?
    ৬. এই পরিপ্রেক্ষিতে সিবদিয়ের দুই ছেলের উপর অন্যান্য ১০ জন সাহাবী বিরক্ত হয়েছিলেন কেন ? (৪১)
  • ঈসায়ী ঈমানদারদের মধ্যে ঝগড়া এবং কেন এই ধরণের বিবাদ তৈরী হয় সে সম্বন্ধে এই অংশ আমাদেরকে কি শিক্ষা দেয় ?
    ৭. ঈসা মশীহ এখানে একজন নেতার জন্য কি যুগান্তকারী আদর্শ স্থাপন করলেন ?(৪২-৪৪)
  • আপনার কি মনে হয় বর্তমান সময়ে ঈসায়ীদের মধ্যে ঈসা মশীহের এই নেতর্ৃত্বের আর্দশের কতটুকু অনুশীলন করা হয় ?
  • ৪৩-৪৪ আয়াতে দেয়া ঈসা মশীহের শিক্ষার কতটুকু আপনি অনসরণ করেছেন ? ( আপনি আপনার মন থেকে উত্তর দিতে পারেন)
    ৮. ইয়াকুব ও ইউহোন্না এভং ঈসা মশীহের মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য কি ?
    ৯. ঈসা মশীহ কখন এবং কিভাবে একজন সেবাকারী অথবা একজন গোলামের মত কাজ করেছেন ? (৪৫) (উত্তরটি আমাদের আজকের আলোচনার বাইরে থেকে নেয়া হয়েছে।)
  • 'মুক্তির মূূল্য' (ইংরেজিতে র্যানজম বা রিডিম, আরবীতে কাফ্ফারা) এই শব্দের অর্থ হচ্ছে একজন গোলামকে কিনে নিয়ে তাকে স্বাধীন করে দেয়া। ৪৫ আয়াতটি আবার পড়ুন এবং আপনার নিজের জীবনে তা প্রয়োগ করুন যে : ঈসা মশীহ কোথা থেকে কিনে নিয়েছেন এবং স্বাধীন করেছেন আর তার মূল্য কত ?

    সুখবর : ঈসা মশীহ তাঁর সেবা আপনাকে দেবার জন্য আগ্রহী। তিনি চান যেন আপনি তাঁর দেয়া গোনাহের ক্ষমা এর সেইসাথে আপনাকে বিশ্বাস করে যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল তার অপব্যবহার করে যে গোনাহ করেছেন তার জন্য ক্ষমা গ্রহণ করেন।


    © 2005 Glad Tidings Mission

    ১৮. একজন অন্ধু ভিক্ষুকের কান্না (১০ঃ৪৬-৫২)


    পটভূমি ঃ আমরা যতদূর জানি, ঈসা মশীহ্ জেরিকোতে একবারই মাত্র গিয়েছিলেন। জেরুজালেমে তাঁর শেষ যাত্রার সময়ে এই ঘটনাটি ঘটেছিল। ঈসা মশীহ সরাসরি দায়ূদের বংশের লোক। মাবুদ আল্লাহ রাজা দায়ূদ এর কাছে ওয়াদা করেছিলেন যে তাঁর পুত্র চিরকাল বনি ইস্রায়েলের উপর বাদ্শাহী করবে ( ২ শামূয়েল ৭ঃ ১২-১৬)। রোমীয়রা, যারা এই সময়ে দেশের উপর রাজত্ব করছিল, তারা আগের কোন বাদশাহের বিষয়ে কথা বলাকে সমর্থন করতো না, এমনকি বর্তমানেরও না।
    ১. আপনি যদি ভিক্ষা করে জীবন যাপন করতেন, তাহলে আপনার জন্য কোন অংশটি সবচেয়ে কঠিন বলে মনে হত ?
    ২. যখন একজন বছরের পর বছর রাস্তার পাশে বসে থাকে তখন সে সেখান থেকে কি শিখতে পারে ?
  • আপনার কি মনে হয়, বরতীময় যখন শুনতো যে ৩ বছর ধরে ঈসা মশীহ শুধুমাত্র জেরিকো ছাড়া ইস্রায়েল দেশের সমস্ত জায়গায় লোকদের মধ্যে সেবাকাজ করছেন তখন তার কেমন অনুভূতি হতো ?
    ৩. কেন বরতীময় সুস্থতার জন্য উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে জেরুজালেমে (মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে) যাননি যেখানে ঈসা মশীহ অনেকবার এসেছেন ?
  • আপনার কি মনে হয় বরতীময়ের কি এমন কোন পরিকল্পনা ছিল যে যদি ঈসা জেরুজালেমে আসেন তাহলে তিনি তার সাথে যোগাযোগ করবেন ?
  • আপনার কি মনে হয় এই অন্ধলোকটির বুদ্ধিমত্তা কেমন ছিল ?
    ৪. কিভাবে বরতীময় এই সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিল যে ঈসা মশীহ দায়ূদের বংশধর (৪৭)?
  • যখন দায়ূদের বংশধরের জন্য বরতীময় চিৎকার করছিল তখন সে কেন রোমীয়দের ভয় পায়নি?
  • যখন লোকেরা তাকে ধমক দিয়ে চুপ করাতে চেষ্টা করছিল তখন তার চিৎকার কিরকম পরিবর্তিত হল ? (৪৭-৪৮)
  • দায়ূদের বংশধর এই কথার প্রতি ঈসা মশীহের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল ?
    ৫. কেন লোকেরা বরতীময়কে সাহায্য পাওয়া থেকে চুপ করাতে চেষ্টা করছিল তার বিভিন্ন কারণ চিন্তা করুন।
  • অন্ধ লোকটি যখন সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিল, তখন লোকেরা তাকে সাহায্য করার পরিবর্তে কি করেছিল (৪৮)?
  • আপনার কি এমন সময়ের কথা মনে আছে যখন আপনার সাহায্যের জন্য চিৎকার শুনে আপনার পাশের লোকেরা আপনাকে প্রত্যাখান করেছে ? আপনার কি মনে হয় কেন এমনটি হয়েছে ?
    ৬. আপনার কি মনে হয় বরতীময়ের তখন কেমন লেগেছিল যখন লোকেরা তাকে বললো যে ঈসা মশীহ তাকে ডাকছেন (৪৯-৫০)?
  • বরতীময় সম্ভবতঃ তার গায়ের ঢিলাঢালা পোশাকটির খুব যত্ন নিতো, যেটিকে সে তার তোষক এবং রাতের লেপ হিসাবে ব্যবহার করতো। কেন সে সেটিকে হঠাৎ ছুঁড়ে ফেলে দিল ?
    ৭. কেন ঈসা মশীহ বরতীময়কে এমন একটি প্রশ্ন করলেন ? (৫১)
  • ঈসা মশীহ আজ আপনাকেও সেই একই প্রশ্ন করেন (৫১)। আপনার উত্তর কি হবে ?
    ৮. ঈসা মশীহ কিভাবে এই লোকটির চোখকে সুস্থ করলেন ?
  • ৫২ আয়াতটি দুইভাবে অনুবাদ হতে পারে ' তুমি ঈমান এনেছো বলে ভাল হয়েছো' অথবা ' তোমার ঈমান তোমাকে রক্ষা করেছে'। কেন ঈসা মশীহ সমস্ত লোকের সামনে বরতীময়কে এই কথা বলতে চেয়েছিলেন ?
    ৯. বরতীময় সারা পথই ঈসাকে অনুসরণ করেছিল, সম্ভবতঃ সমস্ত জেরুজালেমের পথই (৫২)। আপনার কি মনে হয় কেন সে তা করেছিল ?
  • পরের দিন, যখন ঈসা মশীহ যেরুজালেমে প্রবেশ করছিলেন তখন সমস্ত লোকেরা চিৎকার করছিল এবং ঈসাকে ' দায়ূদের বংশধর' বলছিল(১১ঃ ৯-১০)। লোকেরা কেন তখন রোমীয়দেরকে ভয় করছিল না ?
  • চোখ ভাল হবার এক সপ্তাহের মধ্যে, বরতীময় সচক্ষে তার সুস্থতাদানকারীকে ক্রুশের উপর পেরেকবিদ্ধ অবস্থায় দেখেছিলেন। আপনার কাছে কি মনে হয়, তার কাছে ঈসার মৃতু্য কি অর্থ বহন করেছিল ?


    © 2005 Glad Tidings Mission

    ১৯. একটি অভিশপ্ত গাছ (১১-১৪ এবং ২০-২৫)


    পটভূমি ঃ কিতাবুল মোকাদ্দস অনুসারে, যারা আল্লাহর শরিয়ত মেনে চলে না, তাদের উপর আল্লাহর রাগ প্রকাশিত হয় (দ্বিতীয় বিবরণ ২৮ঃ১৫)। পুরাতন কিতাবগুলির ভাববাদীরা এই রাগকে নাটকীয়ভাবে অথবা প্রতীকিভাবে উপস্থাপন করেছেন। ঈসা মশীহ এই গাছটিকে বদ্দোয়া দিয়েছেন তেমনি একটি প্রতীকী হিসাবে।
    ১২-১৪ আয়াত
    ১. কি ঘটনা ঘটে যদি একজন ব্যক্তি অন্য কাউকে বদদোয়া দেয় ?
  • যদি কখন কেউ আপনাকে বদদোয়া দিয়ে থাকে, তাহলে বলুন যে আপনি তা কিভাবে নিয়েছেন ?
    ২. ফলের মৌসুম না হলেও কিভাবে ঈসা মশীহ এই ডুমুর গাছের কাছ থেকে ফল আশা করেছিলেন ?
  • ঈসা মশীহ যখন এই প্রতিকীচিহ্নরূপ কাজটি করেছিলেন, তখন তিনি এই গাছটির মধ্য দিয়ে কাকে বা কি বুঝাতে চেয়েছিলেন ?( আপনি এই অনুবাদ সম্পর্কে কি চিন্তা করেন যে ঈসা তার নিজের বনি ইস্রায়েলীয় জাতিকে বদদোয়া দিচ্ছিলেন ?)
    ৩. মশীহ ঈসা তার নিজের লোকদের কাছ থেকে কি ফল আশা করছিলেন ?
  • ঈসা আপনার জীবন থেকে কি ফল আশা করেন ?
  • ঈসা মশীহ আপনার জামাত থেকে কি ফল আশা করেন (অথবা সার্বিকভাবে সমস্ত ঈসায়ী জামাতের কাছ থেকে) ?
    ৪. রহমতের কাল সম্বন্ধে আমরা কি শিক্ষা পাই( মাবুদ আল্লাহর ধৈর্যের কাল)- এটি কতদিন পর্যন্ত থাকবে ?
  • আপনার কি মনে হয় কখন আমাদের দেশের ঈসায়ী জামাতগুলোর প্রতি মাবুদ আল্লাহর ধৈর্যের সময় শেষ হয়ে যাবে ?

    আয়াত ২০-২১
    ৫. একটি বদদোয়ার জীবন কেমন হয় ?
  • ঈসা মশীহের ক্রুশ এবং বদদোয়াপ্রাপ্ত একটি ডুমুরগাছের মধ্যে কি মিল রয়েছে?

    আয়াত ২২-২৪
    ৬. যদি আপনি কখনও বিশ্বাসে একটি মোনাজাত করে থাকেন, এবং যদি তার উত্তর পেয়ে থাকেন তাহলে সবাইকে বলুন যে কিসের জন্য আপনি মোনাজাত করেছিলেন ?
  • সাধারণ মোনাজাত এবং বিশ্বাসে পূর্ণ মোনাজাতের মধ্যে পার্থক্য কি ?
    ৭. কেন আমরা মাঝে মধ্যে পাহাড় পর্বতকে অন্য জায়গায় সরে যেতে বলতে পারি না ?
  • যদি কোন 'পাহাড়' আপনার জীবন থেকে চিরতরে সরে গিয়ে থাকে , তাহলে সবাইকে বলুন যে কিভাবে তা হয়েছে ?
  • আপনি সেই সময় সম্পর্কে কি চিন্তা করেন, যখন একজন ঈসায়ী 'একটি পাহাড়' কে সরে যেতে আদেশ দিলো, কিন্তু তা সরলো না ?

    আয়াত ২৫
    ৮. অন্যকে ক্ষমা করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠিন বিষয়টি কি ?
  • যদি মনে হয় যে আমরা একজনকে ক্ষমা করতে পারছি না, তখন আমাদের কি করা উচিৎ?
  • যদি একজন ঈসায়ী তার প্রতিবেশীকে ক্ষমা করতে না চায় তাহলে তার ঈসায়ী ঈমান সম্বন্ধে আমরা কি বুঝতে পারি ?
    ৯. কিভাবে ডুমুরগাছকে বদদোয়া দেয়ার সাথে ঈসার পরবতর্ী আলাপগুলো সম্পর্কযুক্ত (২২-২৫)? (ঈসা মশীহের আলাপ অনুসারে , ঈসা মশীহ আমাদের জীবন থেকে কি ফল দেখতে চান ?)
  • কারা তাকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করছিলো তা জানা সত্ত্বেও ঈসা কিভাবে তাঁর শত্রুদেরকে ক্ষমা করতে পেরেছিলেন ?
    সারাংশ
    ১০. ঈসা মশীহ কেন তার জীবনের শেষ সপ্তাহে এসে এই ডুমুরগাছটিকে বদদোয়া দিলেন, তার আগে নয় ?
  • ঈসা মশীহের এই প্রতীকি কাজের অনুবাদ সম্পর্কে আপনার মতামত কি ঃ ডুমুরগাছটিকে বদদোয়া দেয়ার পর, ঈসা মশীহ নিজেকে এই গাছটির জায়গায় দাঁড় করালেন এবং নিজেকে অভিশপ্ত করলেন ?'

    সুখবর : হজরত পৌল আমাদেরকে বলেছেন কিভাবে ঈসা মশীহের মধ্য দিয়ে একটি গৌরবজনক বিনিময় আমরা তৈরী করতে পারি, এবং বদদোয়ার বদলে রহমত পেতে পারি। দলনেতা অবশ্যই এই অংশটি পড়বেন (গালাতীয় ৩ঃ১৩-১৪)।


    © 2005 Glad Tidings Mission

    ২০. দৈহিক পুনরুত্থান নয়(১২ঃ১৮-২৭)


    পটভূমি ঃ ঈসা মশীহের সময়ে সদ্দূকী সমপ্রদায় ছিল সবের্াচ্চ ধমর্ীয় দল। এই দলের মধ্য থেকে সাধারণতঃ মহাপুরোহিত বাছাই করা হত(প্রেরিত ৫ঃ৭)। সদ্দূকীরা আল্লাহকে এবং মূসা নবীর তাওরাত শরীফ (পয়দায়েশ-দ্বিতীয় বিবরণ) বিশ্বাস করতো, কিন্তু তারা দৈহিক পুনরুত্থান, আত্মাদের দুনিয়া, অথবা আখেরী জীবনে বিশ্বাস করতো না। আমাদের বর্তমান সময়ে অনেক উদারমনা আলেমরা ঈসার সময়ে সদ্দূকীদের মতই। (২৪ আয়াত খেয়াল করুন)
    ১. সদ্দূকীরা ঈসা মশীহের কাছ থেকে তাদের প্রশ্নের কি উত্তর আশা করেছিল ?(১৮-২৩)
  • কেন সদ্দূকীরা দৈহিক পুনরুত্থানকে অসম্ভব এবং হাস্যকর বলে মনে করতো ?
  • এই পাঠের আলোকে সদ্দুকীদের মূল আলোচনার বিষয় কি ছিল ?
    ২. নিম্মের পরিস্থিতিগুলো কল্পনা করুন ঃ
  • আপনি একজন সদ্দূকী এবং আপনি এই মাত্র শুনলেন যে আপনার এক বন্ধুর ক্যান্সার হয়েছে যা কখনও সুস্থ হবে না। আপনি তাকে কিভাবে স্বান্তনা দেবেন?
  • আপনি একজন সদ্দূকী এবং এবং আপনি একজনের সমাধি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন যেখানে সেই ব্যক্তির বিধবা স্ত্রী অঝোরে কাঁদছেন। আপনি তাকে কি বলবেন ?
    ৩. যে ব্যক্তি দৈহিক পুনরুত্থানে বিশ্বাস করে না মাবুদ আল্লাহ সম্পর্কে তার মধ্যে কি ধারণা আছে?
  • যে ব্যক্তি আখেরী বেহেশ্ত কিম্বা দোজখ্ বিশ্বাস করে না তার কাছে 'নাজাত' এর কি অর্থ হতে পারে ?
  • আপনার কি মনে হয় সদ্দূকীরা কোন ধরণের নাজাতদাতার অপেক্ষা করছিল ?
    ৪. কেন সদ্দূকীরা সঠিক মতবাদ এবং নাজাতের ঈমান থেকে দূরে সরে গিয়েছিল ? (২৪)
  • কেন আমাদের বর্তমান সময়ের উদাপন্থী আলেমেরাও সদ্দূকীরা যে ভুল করেছে তা তারাও করছে ?
  • উদারপন্থী আলেমেরা যারা দৈহিক পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে তাদের প্রতারণার হাত থেকে মানুষ কিভাবে রক্ষা পেতে পারে ?
    ৫. পুনরুত্থানের উপর নিজের ঈমান ধরে রাখার জন্য ঈসা মশীহ কি যুক্তি ব্যবগার করেছিলেন? (২৬-২৭)
  • দলনেতা এখানে ইব্রীহিম(আঃ), ইস্হাক ও ইয়াকুব (আঃ) এর ঈমানের বিষয়ে ইব্রাণী ১১ঃ১৬-১৭ আয়াত পড়তে পারেন। যদি এই তিনজন নবী পুনরুত্থানে বিশ্বাস না করতেন, তাহলে তাদের জীবনে কৃত্রিমভাবে যে পরিসমাপ্তি ঘটানো হয়েছিল তা তারা কিভাবে গ্রহণ করতেন ?
  • আপনি যদি দৈহিক পুনরুত্থানে বিশ্বাস না করেন তাহলে আপনার জীবন কিসের মত ?
    ৬. ইঞ্জিল শরীফ আমাদেরকে এই কথা বলে যে কিছু ফরীশীরা ঈসা মশীহের উপর ঈমান এনেছিল, কিন্তু কোন সদ্দুকী ঈমান আনেনি। আপনার কি মনে হয় কেন এমন হয়েছিল ?
    ৭. আমাদের মধ্যে যারা মৃতু্যকে ভয় করে তাদের জন্য এই পাঠ্যাংশে কি শিক্ষা দেয়া আছে?
  • ' আল্লাহতো মৃতদের আল্লাহ নন, তিনি তো জীবিতদের আল্লাহ'- এই কথাগুলো ব্যক্তিগতভাবে আপনার কাছে কি অর্থ বহন করে ?

    সুখবর ঃ যদি আল্লাহ মৃতদের আল্লাহ না হন কিন্তু জীবিতদের আল্লাহ হন, তাহলে কেন সেই আল্লাহকেই মৃতু্যবরণ করতে হয়েছিল ? এটি হয়েছিল একারণেই যে, গোনাহ্গারদেরকে আখেরী মৃতু্য থেকে রক্ষা করে আখেরী জীবনের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য এছাড়া আর কোন উপায় ছিল না।


    © 2005 Glad Tidings Mission

    ২১. ঈসা মশীহের দ্বিতীয় আগমণ (১৩ঃ ১৪-৩২)


    পটভূমি ঃ এই অংশে, ঈসা মশীহ একসঙ্গে দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন ঃ জেরুজালেমের ধ্বংসের কথা ( যা ৪০ বছর পরে ঘটেছিল, ৭০ খ্রীষ্টাব্দের সময়ে), এবং তাঁর দ্বীতিয় আগমনের পূর্ববতর্ী সময়ের কথা( যে সময়ে এখন আমরা বাস করছি)।
    ১. কিছু বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে মানবজীবনের ইতিহাসকে যদি ২৪ ঘন্টা সময় ধরা হয়, আর পৃথিবীর শেষ সময়কে যদি মধ্যরাত হিসাবে ধরা হয় ,তাহলে এখন আমরা ১১ঃ৫৫ মিনিটে আছি। এই ধারণা সম্পর্কে আপনার মত কি ?
  • আপনি কি চান যেন আপনি জীবিত থাকা অবস্থায় ঈসা মশীহ এই দুনিয়াতে আবার ফিরে আসুক ? আপনার কারণগুলি বলুন।
    ২. 'সর্বনাশা ঘৃণার জিনিষ যেখানে থাকা উচিৎ নয়, তোমরা যখন তা সেখানে থাকতে দেখবে'- এই কথাটি দানিয়াল কিতাব থেকে উদ্বৃত করা হয়েছে যেখানে প্রায় ১৬৮ খ্রী্ষ্ট পূর্বাব্দে অর্তক্ষস্ত রাজা গ্রীক দেবতা জিউসের একটি মূর্তি তৈরী করে এবাদতখানার ভিতরে রেখেছিলেন। ঈসা মশীহ এখানে এই একই বিষয়ে ভবিষ্যতবানী করেছেন যা এ যুগের শেষ সময়ে ঘটবে। আপনার কি মনে হয় শেষ সময়ে ঈসায়ী জামাতগুলো সর্বনাশা এমন কি জিনিষ এবাদতখানার রাখবে যা ধ্বংসের কারণ হবে?
  • ৭০ খ্রীষ্টাব্দে ঈসায়ীরা ঈসা মশীহের কথা মনে রেখেছিল এবং জেরুজালেম দখল হবার সময় তারা পালিয়ে গিয়ে রক্ষা পেয়েছিল। শেষকালের জন্য এই কথাগুলো কি অর্থ বহন করে ? ঈসায়ীদেরকে কি বিষয় থেকে পালিয়ে যাওয়া উচিৎ? (১৪-১৮)
    ৩. কেন ঈসা মশীহ শেষ সময়ে মানব জীবনে কি ধরনের মহামারী, ধ্বংস বা ক্লেশ নেমে আসবে সে সম্পর্কে পরিস্কার করে কিছু বলেননি ? (১৯-২০)
    ৪. এই আলোচ্য অংশ অনুসারে, ঈসা মশীহের দ্বিতীয় আগমনের আগে জামাতের ধমর্ীয় অবস্থা কেমন হবে (২১-২৩)? এই পাঠের আলোকে, শেষ দিন এসে গেছে এ বিষয়ে সারাবিশ্বে যে জাগরণ কিছু ঈসায়ীরা বিশ্বাস করে, সে সম্পর্কে আপনি কি মনে করেন?
  • কিভাবে আমরা জানতে পারি যে কে প্রকৃত মশীহের ঘোষণা করবে আর কে নয় (২১-২৩)?
  • কিভাবে ভণ্ড মশীহেরা বিভিন্ন্ চিহ্ন ও কেরামতী কাজ করে দেখাবে ?
  • সম্ভবত ভন্ড মশীহেরা ভাববে তারা যা করছে তা ঠিক। কি বিষয় তাদেরকে মন্দভাবে ভ্রান্তপথে নিয়ে যাবে ?
  • আপনার কি মনে হয় এ দূর্দশাপূণ সময়ে কিছু সত্যিকারের ঈসায়ী ঈমানদারেরা প্রতারিত হবে ? আপনার কারণগুলো বলুন।
    ৫. ২৪-২৫ আয়াতে যেভাবে বলা হয়েছে কি কারণে সেভাবে বায়ূমণ্ডল ও সৌরজগতে পরিবর্তন আসবে ? বিভিন্ন কারণগুলো চিন্তা করুন।
    ৬. ঈসা যখন ফিরে আসবে তখন যারা তার বাছাই করা লোক তাদের প্রতি কি ঘটবে ? অন্যান্যদের প্রতিই বা কি ঘটবে (২৬-২৭)?
    ৭. ঈসা মশীহ এখানে ডুমুরগাছের ঘটনার মধ্য দিয়ে আজ আমাদেরকে কি শিক্ষা দিতে চান ? (২৮-২৯)
    ৮. উদারপন্থী আলেমেরা দাবী করেন যে ঈসা মশীহ তার ফিরে আসার সময়ের বিষয়ে ভবিষ্যতবানী করতে গিয়ে ভুল করেছেন (৩০)। তাদের দাবী সম্বন্ধে আপনি কি মনে করেন? ( যদি ঈসা মশীহ একটি ব্যর্থ ব্যক্তিত্ব হয়ে এ দুনিয়াতে আবার ফিরে আসেন তাহলে ঈসায়ীদের ঈসানের অবস্থা কি হবে ?)
  • আপনি কি মনে করেন ৩০ আয়াতের আসল অর্থ কি ?
    ৯. শেষ সময়ের ঈমানদারদের কাছে আল্লাহর কথা কি গুরুত্ব বহন করে?
  • ব্যক্তিগতভাবে আপনার কাছে আল্লাহর কথা কি গুরুত্ব বহন করে?
    ১০. শেষ সময় পর্যন্ত ঈমানদারদের কাছে ঈসা মশীহের দ্বীতিয় আগমনের তারিখ গোপনীয় কেন?


    © 2005 Glad Tidings Mission

    ২২. মহব্বত কখনও ব্যর্থ হয় না (১৪ঃ১-৯)


    পটভূমি ঃ দলনেতা সংক্ষেপে এই পাঠ্যাংশ বেথেনিয়ার মরিয়মের সম্বন্ধে কি শিক্ষা দেয় তা বলবেনঃ লূক ১০ঃ৩৮-৪২, ইউহোন্না ১১ অধ্যায় এবং ইউহোন্না ১২ঃ১-১১। ( তিনি লূক ৭ঃ৩৬-৫০ আয়াতের মহিলা নন)।মার্থা মরিয়ম ও লাসারের অভিভাবকেরা অবশ্যই মারা গেছেন। সম্ভবত তারা তাদের অবিবাহিত মেয়েদের জন্য কিছু অর্থ রেখে গিয়েছিলেন যেন বৃদ্ধ বয়সে তাদের সাহায্য হয়। ঈসা মশীহের জীবনের শেষ সপ্তাহ এখান থেকে শুরু হল।
    ১. আপনি যদি জানেন যে আপনার কোন বন্ধু/বান্ধবী মারা যাচ্ছে তাহলে আপনি তার সাথে কি ধরণের সঙ্গ দেবেন ?
  • ঈসা মশীহ এখানে তার নিজের মৃতু্যর কথা উল্লেখ করেছেন(৮)। আপনি কি মনে করেন মাথর্া, অন্যান্য সাহাবীদের মত নয়, কিন্তু বুঝতে পেরেছিলেন যে ঈসা মশীহ খুব শীঘ্রই মৃতু্যবরণ করতে যাচ্ছেন ? আপনার কারণগুলি ব্যাখ্যা করুন।
    ২. জটামাংসীর তেল দিয়ে তৈরী দামী ও খাঁটি একপাত্র আতর কিনতে হলে আপনাকে সারা বছরে একজন শ্রমিক যে আয় করতো তার চেয়ে বেশী অর্থ দিয়ে কিনতে হতো। এজন্য এটি ব্যবহারের সময় মাত্র একফোঁটা ব্যবহার করা হত। আমাদের বর্তমান টাকার হিসাবে এই একপাত্র আতরের দাম কত হবে ?
  • এই পরিমাণ অর্থ জমা করতে কতদিন সময় লাগে ?
  • যেহেতু মরিয়ম এই দামী আতর কিনেছিলেন, সেহেতু তিনি তার যৌতুক ও পেনশনের বিষয়ে কি চিন্তা করেছিলেন ?
    ৩. কেন মরিয়ম কয়েক ফোঁটা আতর ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ পাত্রটা ভেঙ্গেই ঈসা মশীহের মাথায় ঢেলে দিয়েছিলেন ?
    ১. 'মশীহ' শব্দের অর্থ হল ' অভিষিক্ত বা মনোনীত একজন'। ইহুদী বাদ্শাহদেরকে সাধারণতঃ তাদের কার্যকাল শুরুর প্রথমেই অভিষিক্ত করা হত। কেন ঈসাকে অভিষিক্ত করা হয়নি যতক্ষণ না পর্যন্ত তার মৃত্যৃদিন আসে ?
    ৪. মরিয়ম তার জমানো সমস্ত অর্থ এই সুগন্ধি আতর কেনার জন্য ব্যবহার করেছিল। সমালোচনার কোন অংশ তাকে বেশী আহত করেছিলো ? (৪-৫)
  • এক বছরের মজুরী কিভাবে শহরের একজন গরীবের উপকারে আসতো ?
    ৫. ঈসা মশীহ যখন তার পক্ষে কথা বলছিলেন তখন কোন বিষয়টি তাকে বেশী সম্মানিত করে তুলেছিল ? (৬-৯)
  • আপনি কি ঈসা মশীহের এই কথা আপনার জীবনে প্রয়োগ করতে পারেন ঃ ' ও যা পেরেছে তা করেছে।' (৮)
  • এখন থেকেই আপনি ঈসার জন্য কি করতে পারেন ?
    ৬. ঈসা মশীহ যা করেছেন তার সাথে মরিয়ম যা করেছেন তার মিল কোথায় ? (যেমনঃ ক্রুশের উপর তার মৃতু্য, ৯ আয়াতে উল্লেখিত 'সুখবর)
  • আপনি কি মনে করেন কোনটি সবচেয়ে বেশী ' নষ্ট করা' ঃ যে মরিয়ম তারা দামী আতর ঈসার পায়ে ঢেলে নষ্ট করেছেন অথবা ঈসা মশীহ মরিয়মের জন্য তাঁর রক্ত ঢেলে দিয়েছেন ?
    ৭. মরিয়মের স্বভাবের মধ্যে এমন কি অনুপম বিষয় ছিল যে তা সারাজীবন মনে রাখা হবে (৯) ?
  • কি ধরণের স্মৃতি আপনি পিছনে রেখে আসতে চান ? (৯)
    ৮. সেদিন ঈসা মশীহের জন্য মরিয়ম যে অর্থ 'নষ্ট' করেছেন, আপনি কি মনে করে পরবতর্ীতে এ বিষয়ে তার অনুভূতি কি ছিল ?
  • কিভাবে মরিয়ম ঈসাকে অনেক মহব্বত করতে শিখেছিলেন ?
  • কিভাবে আমরা মরিয়মের মত ঈসাকে আরো বেশী মহব্বত করতে শিখতে পারি ?
    সুখবর ঃ মরিয়ম ঈসাকে ভালবাসতে শিখেছিলেন তার কথা শোনার মধ্য দিয়ে। একারণে তিনি ঈসাকে ঠিক সময়ে সেবা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। মরিয়ম প্রথমে সুখবরের উপর ঈমান এনেছিলেন, এবং এই ঈমান তার দিলে এমন আকাংখা তৈরী করেছিলো যেন সে তার সমস্ত কিছু প্রভুর কাছে সমর্পণ করে। দুনিয়াতে তাঁর শেষ দিনগুলিতে ঈসা মশীহ জটামাংসীর তেলের সুগন্ধি নিয়েই সবজায়গায় ঘুরেছিলেন এবং এটি মরিয়মের কারণেই হয়েছিল।

    © 2005 Glad Tidings Mission

    ২৩. একটি প্রহসন যাকে ঈসার বিচার বলা হয়েছে (১৫ঃ১-১৫)


    পটভূমি ঃ দলীয় আলোচনার জন্য, ২/৩ জন করে নিয়ে দল ভাগ করুন। প্রতিটি দল যে কোন একটি বা দুটি অংশ নিয়ে আলোচনা করবে, এবং এই অংশ থেকে যে শিক্ষা লাভ করবে তা অন্যদের সাথে বলবে।

    ১. পন্তীয় পিলাত
    ২৬-৩৬ খ্রীষ্টাব্দে যিহুদিয়ার প্রধান শাসনকর্তা হিসাবে, তিনি রোমীয় বাদ্শাহের নিয়োগকৃত বাহিনীর প্রতিনিধি ছিলেন এবং বাদ্শাহ্ তিবিরিয়ের কাছে দায়বদ্ধ ছিলেন। পিলাত চাইতেন না যে ইহুদীদের বিদ্রোহের কোন ধরণের গুজব যেন বাদ্শাহের কানে যায়। যে কোন মৃতু্যর ঘোষণা বা তা তুলে নেয়ার অধিকার তার ছিল।
    আয়াত ১-১৫
  • আলোচ্য এই অংশ থেকে পিলাতের চরিত্র সম্পর্কর্ে আপনার ধারণা কি ?(উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, তার মূল্যবোধ কেমন ?)
  • একজন বিচারক যদি বিচারের সময় ১২ ও ১৪ আয়াতে যেরকম প্রশ্ন আছে সেরকম প্রশ্ন করে, তাহলে তার সম্পর্কে আপনি কি চিন্তা করেন ?
  • কেন পিলাত তার যে ক্ষমতা ছিল তা ব্যবহার করেননি কিন্তু তিনি চেয়েছেন যে অন্যেরা তার পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ?
  • আপনার কি মনে হয় পিলাত কি সত্যিই ঈসার কথা চিন্তা করেছিলেন ?( কেন তিনি ঈসাকে দুইবার 'ইহুদিদের বাদ্শাহ্ বলে ডেকেছেন ? ৯ ও ১২ আয়াত।)
  • এই দুজন ব্যক্তির একে অন্যের মধ্যে তুলনা করুন ঃ রোমীয় শাসনকর্তা এবং ইহুদীদের বাদ্শাহ। তাদের মধ্যে পার্থক্য কি ?
  • কে শেষে আইনগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতো ?
  • আপনার কি মনে হয় যখন পিলাত ঈসা মশীহকে চাবুক মারতে ও ক্রুশে দেবার জন্য তুলে দিলেন তখন তার কেমন অনুভূতি হয়েছিল ?(১৫)
  • আপনার কি মনে হয় যে পীলাত নিজেকে স্বান্তনা দেবার চেষ্টা করেছিলেন ?
  • যদি ঐ সকালে আপনি পিলাতের জায়গায় থাকতেন, তাহলে আপনি কিভাবে এই ঘটনাকে নিয়ন্ত্রণ করতেন ?

    ২. বারাব্বা
    একজন খুনী এবং রাজনৈতিক বিদ্রোহীদের নেতা, যার নামের সাধারণ অর্থ হল একজন পিতার সন্তান।
    আয়াত ৬-১৫
  • একটু কল্পনা করুন যে এই লোকটির ছেলেবেলা, যুব বয়স এবং পূনর্াঙ্গ বয়সকাল গুলো কেমন ছিল? কি বিষয়গুলি এই লোকটিকে একজন বিদ্রোহী এবং খুনী করে তুলেছিল ?
  • যদি আপনার আশেপাশের পরিবেশ অন্যরকম হয়, আপনি কি মনে করেন যে আপনার খুনী হতে পারেন? কেন অথবা কেন নয়?
  • মৃতু্যর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এই লোকটির কি ধরণের চিন্তা মনের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল বলে আপনি মনে করেন ?( আপনি কি মনে করেন যে সে কোন কিছুর জন্য দুঃখ প্রকাশ করতো ?)
  • আপনার কি মনে হয় বারাব্বা কি সেই লোকটির মৃতু্য দেখতে গিয়েছিল যে তার পরিবর্তে ক্রুশের উপর পেরেকবিদ্ধ হয়েছিল ?
  • কোন দিক দিয়ে আমরা সবাই ঈসা মশীহের কছে বারব্বার মত ?

    ৩. প্রধান ইমাম
    সাধারণতঃ সেই সময়ে মাত্র একজনই প্রধান ইমাম হত, কিন্তু এই ঘটনার ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই দুজনকে ঃ কায়াফা, যে ১৮-৩৬ খ্রীষ্টাব্দে প্রধান ইমাম ছিল, এবং তার শ্বশুর আন্না, যে আগে এই দায়িত্বে ছিল। সে তার জামাই এর মধ্য দিয়ে তার প্রভাব ব্যবহার করে যাচ্ছিল।
    ১-১৫ আয়াত
  • আপনি কি মনে করেন প্রধান ইমামেরা তাদের জীবনের মহৎ আহ্বানের কারণে অন্যদের কাছে সম্মান পেতেন ?
  • কেন প্রধান ঈমামেরা ঈসা মশীহকে ঈর্ষা করতেন ?
  • কেন প্রধান ইমামেরা তাদের নিজেদের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে নিশ্চিত ছিল না ?
  • আপনি কি মনে করেন কোন অঘটনটি সবচেয়ে খারাপ ছিল ঃ প্রধান ইমামদের মাধ্যমে একটি আইনগত খুন অথবা রাজনৈতিক বিদ্রোহের সময় বারব্বার খুন ?
  • এটি কি করে সম্ভব যে একজন ধমর্ীয় ব্যক্তিত্ব ইবলিশের হাতের অস্ত্র হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে ?
  • আপনার কি মনে হয় যে,কোনভাবে আপনি প্রধান ইমামের মত ? যদি মনে হয়, তাহলে কোনভাবে ?

    ৪. জনতা
    আগের সপ্তাহেই এই জনতা 'হোশান্না' বলে চিৎকার করেছিল। এখন তারা চিৎকার করছে 'ওকে ক্রুশে দাও'! নিশ্চয়ই এই জনতার মধ্যে কিছু লোক অন্ততঃ ছিল যারা ব্যক্তিগতভাবে ঈসা মশীহের সাহায্য পেয়েছে।
    ৮-১৫ আয়াত
  • কেন লোকেরা একজন বিপদজনক খুনীর মুক্তি চাইছিল ?
  • লোকেরা কিভাবে তাদের উপকার করেছে এমন একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে চলে গেল? ( কেন সেখানে ঈসার পক্ষে কথা বলার জন্য এবং অন্যায় বিচারের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য একজনও ছিল না ?
  • ঐদিন সকালে যদি আপনি ঐ ভিড়ের মধ্যে থাকতেন তাহলে আপনি কি করতেন ?
  • আপনার কি মনে হয় এধরণের ঘটনা কি বর্তমান সময়ে আমাদের দেশেও ঘটে ? আপনার মতামত দিন।
  • এই অংশ আমাদেরকে গনতন্ত্রের ভাল ও খারাপ দিক সম্বন্ধে কি শিক্ষা দেয় ?
    ৫. ঈসা মশীহ
    সমস্ত বিচারের সময় তিনি শুধুমাত্র একবার একটি বাক্য বলেছেন(২)। এছাড়া তিনি নীরবই ছিলেন।
    ১-১৫ আয়াত
  • এই মূহুর্ত আসার আগ পর্যন্ত ঈসা মশীহ শুধুমাত্র 'ইব্নে আদম' ছাড়া তার অন্য কোন নাম প্রতা্যাখাত করেছেন। কেন তিনি এখন জনতার সামনে একথা বলতে সুযোগ দিলেন যে তিনি ইহুদীদের রাজা ?
  • কেন ঈসা মশীহ নিজেকে রক্ষা করেননি ?
  • এই পাঠ্যাংশের অন্যান্যদের সাথে ঈসা মশীহের তুলনা করুন। কিভাবে তাদের অন্যদের চেয়ে তিনি আলাদা ? ( ঐ সময়ের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, বিশেষভাবে কি ঈসাকে অসাধারণ করে তুলেছিল ?)
  • ঈসা মশীহের চারপাশে যে সমস্ত লোকেরা ছিল তাদের সম্বন্ধে তাঁর অনুভূতি কেমন ছিল বলে আপনি মনে করেন ?
  • ঈসা মশীহের বিচারের সময়ে কে তাঁর ঘটনাকে স্থায়ীরূপ দিয়েছিল ? পিলাত, আল্লাহ অথবা ইবলিস্ ?


    © 2005 Glad Tidings Mission

    ২৪. অবিশ্বাস্য পুনরুত্থান (১৬ঃ১-১১)


    পটভূমি ঃ পুরাতন ঐতিহ্য অনুসারে, হজরত মার্ক ছিলেন হজরত পিতরের অনুবাদক ; তার সুখবরটি ছিল ঈসা মশীহের জীবনী যা হজরত পিতর নিজ চোখে দেখেছিলেন। এই সুখবরের একটি অন্যতম মূল বিষয় হচ্ছে সাহাবীদের ঈমানের অভাব। যদিও ঈসা মশীহ তাঁর মৃতু্য এবং পুনরুত্থান সম্পর্কে পূর্বেই ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন, তবুও সাহাবীরা বিশ্বাস করেনি যে একটি সম্ভব ছিল। মনে রাখুন যে ঈসার দেহ ইতোমধ্যেই অভিষিক্ত করা হয়েছে যেদিন তিনি মারা গিয়েছিলেন।
    ১. কেন গালীল থেকে আসা মহিলারা কবরের মুখে পাথর এবং কবর পাহারা দেবার জন্য সৈন্য থাকা (মথি সিপারা অনুসারে) সত্ত্বেও ঈসার কবর দেখার জন্য জেদ ধরেছিলেন ? (১-৩)
    ২. এই মহিলারা ২ দিন আগে দেখেছেন যে ঈসা মশীহের ক্ষত বিক্ষত দেহকে অভিষিক্ত করা হয়েছে। আপনার কি মনে হয় কেন তারা দ্বীতিয়বারের জন্য আবার তাকে অভিষিক্ত করতে চাইলেন ?
  • আপনি কি মনে করেন যে এরকম অবস্থায় আপনি কি আপনার কোন প্রিয়জনের দেহ দেখতে বা ছুঁয়ে দেখতে চাইবেন ?
  • শুধুমাত্র ইউহোন্না ঈসা মশীহের মৃতু্য প্রত্যক্ষ করেছিলেন ; অন্যান্য সাহাবীরা একবারের জন্যও ঈসা মশীহের দেহ দেখতে চাননি। কেন চাননি ? ( আপনার কি মনে হয় এক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে বিশেষ কোন পার্থক্য আছে ? যদি থাকে তাহলে তা কি ?)
    ৩. যদি মহিলারা ঈসা মশীহের বলা ভবিষ্যতবানীতে বিশ্বাস করে থাকেন, তাহলে আপনার কি মনে হয় রবিবার সকালে তাদের আচরণ কেমন হবে ?
    ৪. যখন এই মহিলারা ফেরেশ্তাদের কথা শুনেছিল তখন তারা কি চিন্তা করেছিলো (৬)?
  • ফেরেশ্তাদের কথা শুনে, মহিলারা এমন ভয় পেয়েছিল যে তারা মশীহের পুনরুত্থানের কথা কাউকে বলেনি (৮)। কি বিষয় তাদেরকে এত ভীত করেছিল ?
    ৫. সেই সময়ের আইনে মহিলাদের কোন কথা আদালতে সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করা হত না জেনেও তার পুনরুত্থানের প্রথম সাক্ষী হবার জন্য কেন ঈসা মশীহ মহিলাদেরকে বেছে নিলেন? (৭,১০)
    ৬. এই মহিলাদের দিলে কখন এবং কিভাবে ঈসা মশীহের পুনরুত্থান সম্পর্কে ঈমান জন্ম নিল ?
    ৭. আপনার জীবনে কি এমন কিছু আছে যা মনে হয় মৃতদেহের মত এবং তা আবার পুনরুত্থিত করা অসম্ভব বলে মনে করেন? (আপনি নিজেকেই উত্তর দিতে পারেন)
  • ১৪ আয়াতে যেভাবে ঈসা মশীহ তাঁর সাহাবীদের ঈমানের অভাবের জন্য তিরস্কার করেছেন সেভাবে যদি আপনাকেও তিরস্কার করেন তাহলে আপনি কি উত্তর দেবেন ?
    ৮. দেহের পুনরুত্থান (যা শুধুমাত্র ঈসায়ী ঈমানের ক্ষেত্রে শিক্ষা দেয়া হয়) এবং আত্মার অমরত্বের (অনেক ধর্মের মধ্যে যা একটি প্রচলিত বিশ্বাস) মধ্যে পার্থক্য কি ?
    ৯. যদি দেহের পুনরুত্থানের মত কোন বিষয় না থাকতো, তাহলে ঈসায়ী সমাজ মানবজাতির জন্য কি দিতে পারতো ?
  • ধরুন একজন ব্যক্তি সমস্ত ঈসায়ী শিক্ষাকে বিশ্বাস করে, কিন্তু দেহের পুনরুত্থানের শিক্ষা বিশ্বাস করে না. তাহলে আমরা কেন তাকে ঈসায়ী বলতে পারি না ?
    ১০. হজরত পিতর দুইদিন আগে তার প্রভুকে অস্বীকার করেছিলেন। যখন ঈসা মশীহ তার কাছে একটি বিশেষ শুভেচ্ছা পাঠালেন তখন এটি তার কাছে কি অর্থ বহন করেছিল ?
  • কল্পনা করুন যে গোনাহের কবরে আটকে আছেন। যদি কিছু সময় পরে, আপনি ঈষা মশীহের কাছ থেকে একটি সংবাদ পান যে তিনি আপনাকে দেখতে চেয়েছেন, তখন আপনার অনুভূতি কি হবে ?

    © 2005 Glad Tidings Mission